মাদক ছেড়ে সুস’ জীবনে

০৩/০৩/২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 6

মাদকের ছোবল দেশের যুবশক্তিকে কিভাবে বিপর্যসৱ করছে সেটা কারও অজানা নয়। শহর-গ্রামে মাদকাসক্তদের উৎপাতের শিকার হচ্ছে কত পরিবার তার হিসাব কারও জানা আছে বলে মনে হয় না। মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসায়ে জড়িতদের সঠিক তথ্যও জানা নেই। তবে তাদের দেখা মেলে এখানে ওখানে। অন্যান্য অপরাধের মত এ সবও যে পুলিশের অজানা নয় সেটা অবিশ্বাস করার কারণ নেই। তাই পুলিশের উদ্যোগে যখন মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে আসার কথা জানা যায় তখন মনে যাই থাক, এটা খুশির খবর মানতেই হবে।
সর্বশেষ রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও নওগাঁর মান্দায় মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শপথ নিয়েছেন অর্ধশত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। এর আগেও এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনার খবর পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। গোদাগাড়ী ও মান্দার অনুষ্ঠানে সেখানকার স’ানীয় পুলিশ কর্মকর্তাগণ তাদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। পুলিশ অভিযানের মুখে তারা সুস’ জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার করে আত্মসমর্পণের কথাও জানা গেছে। সম্ভবত এটা তারা বুঝতে পেরেছেন মাদক কি ভাবে তাদের স্বাভাবিক জীবনকে ধ্বংস করেছে। পরিবার বিপর্যসৱ হয়েছে। সমাজের কাছে হেয় করে তুলেছে। এমন উপলব্ধি থেকেই যদি তারা নিজেদের পাল্টে ফেলতে সচেষ্ট হন তবে সেটা খুবই আনন্দের খবর। এ ধরনের আরও খবরের অপেৰায় থাকতে কারও আপত্তি থাকতে পারে না। আমাদেরও নেই।
যারা মাদক ছেড়ে আসতে চাইছেন তারা কি ভাবে সেই অন্ধকারের শিকার হলেন সেটা জানাও গুরম্নত্বপূর্ণ। তারা যদি পরিবেশ-পরিসি’তির কারণে এই শিকার হন তবে তাদের একক প্রচেষ্টায় ফিরে আসা কঠিন। পরিবেশ-পরিসি’তি না পাল্টালে তাদের যে চাপের মুখে পড়তে হবে না সেটা কে বলতে পারে? মাদকাসক্ত হওয়ার পেছনে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক কারণ থাকার কথা কি অস্বীকার করা যায়? এ ৰেত্রে ব্যক্তিগত দায় অবশ্যই আছে, তবে তার পেছনে অন্যান্য দায়ের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। যুবকেরা কেন অন্ধকার পথে পা বাড়ায়, মাদক ব্যবসায়ের মত বিপদজনক কাজে জড়িয়ে পড়ে সেটা না জেনে এ সমস্যার সমাধান করা কি আদৌ সম্ভব?
আজ সমাজের সর্বত্র, পাড়া-মহলস্নার আনাচে-কানাচে থেকে শিৰা প্রতিষ্ঠানে হল, হোস্টেলে মাদকের ছড়াছড়ি নিয়ে নানা ধরনের খবর প্রায়শই মিডিয়ায় ফলাও প্রচার পায়। মাদক তৈরির কারখানা, বিদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা মাদকের খবরও গোপন নয়। এ সবের সঙ্গে ওপর তলার অর্থবান ও ৰমতাবান ব্যক্তিদের যোগসাজশের কথাও অজানা নয়। মাদক ব্যবসা অতি লাভজনক বলে এর আকর্ষণ অস্বীকার করা অনেকের পৰেই সম্ভব হয় না। এসব ৰেত্রে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস’া ছাড়া শুধু তৃণমূল পর্যায়ে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের বিরম্নদ্ধে অভিযান ও মাদক ছাড়ার শপথের পরিণতি শেষ পর্যনৱ কি হবে সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এ ৰেত্রে তাদের কর্মসংস’ান ও বিকল্প আয়ের ব্যবস’া করা হলে অবশ্যই আশাবাদী হওয়া যায়। কারণ মাদকের অভিশাপ মুক্ত হয়ে সুস’ জীবনে ফিরে আসতে কে না চায়। বিষয়টার প্রতি আমরা উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

Leave a Reply