সেনাবাহিনীকে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হবে

17/02/2017 1:09 am0 commentsViews: 24

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন- ‘জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সার্বভৌমত্ব রৰার পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে দেশ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমি আশা করি, সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মত সুদূর ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে’।
রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে বুধবার (১৬ ফেব্র্বয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) ২য় বীর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
এর আগে দুপুর সোয়া ১২টায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকেপ্টারে করে রাষ্ট্রপতি রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে পৌঁছান। সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। পরে দুপুর  পৌনে ১টায় শহীদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে আর্টিলারি বাহিনীর একটি চৌকস দলের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। সেখানে রাখা পরিদর্শন বইতে স্বাৰর করেন রাষ্ট্রপতি।
ভাষণের শুর্বতে রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিকদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা উলেৱখ করেন।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে শৃঙ্খলা ও পেশাগত দৰতা উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই’।
‘বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্ট (বিআইআর) বিকাশে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের আত্মত্যাগ সব সময় স্মরণী। এজন্য ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী তা গঠনে অনুমোদন দেন’।
আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের গৃহীত নানান বাস্তবমুখি পদৰেপের কথা উলেৱখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘ভিশন-২০২১’ এ সঙ্গতি রেখে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর লৰ্যমাত্রা ২০৩০ প্রস’ত করেছে’।
নতুন নতুন ইউনিট গঠনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম কিনে এরই মধ্যে সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছেও বলে উলেৱখ করেন রাষ্ট্রপতি।
সেনা সদস্যদের প্রশিৰণের কথা উলেৱখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সৈনিক জীবনে প্রশিৰণের কোনো বিকল্প নেই। প্রশিৰণ মানুষকে শৃঙ্খলতার শিৰা দেয় এবং পেশাগত জ্ঞান প্রদানের মধ্যে দিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। পেশাদার বাহিনীর জন্য এটি চলমান প্রক্রিয়া’।
১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিলৱা আর্মি একাডেমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের কথা উলেৱখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু সেদিন সৈনিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “তোমরা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করবে। মনে রাখবে কোন ভালো মানুষ যেন কোন ভুলের সিদ্ধান্তে ৰতিগ্রস্ত না হয়”।
এ সময় দেশ ও দেশের বাইরে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও আমাদের সেনাবাহিনী দেশের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনবে। মানুষের ভালোবাসা অর্জনের পাশাপাশি বিশ্ব সমপ্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে’।
সফরসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট শহীদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে বিআইআরসি’র ২য় বীর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে মধ্যহ্ন ভোজে অংশ নেন। পরে তিনি বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন- ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ফার্বক খান এমপি, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন, সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, আবদুল ওয়াদুদ দারা, বেগম আখতার জাহান, আয়েন উদ্দিন, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, রাজশাহীর দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ডাবলু সরকার, সহসভাপতি শাহীন আক্তার রেণী, রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: মুনির হোসেন, জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন, মহানগর পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম, বারিন্দ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমডি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পিতা মো: শামসুদ্দিনসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

Leave a Reply