অমর একুশে

১৫/০২/২০১৭ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 93

স্টাফ রিপোর্টার: ভাষার মাস ফেব্রম্নয়ারি ১৫ তম দিন আজ। কবি সৈয়দ শামসুল হক একুশের কবিতায় লিখেছেন, সভ্যতার মণিবন্ধে সময়ের ঘড়ি/শিশুর জন্ম থেকে জরাদেহ ৰীণশ্বাস মানবের অবলুপ্তির সীমারেখায়/বলে গেল সেই কথা। সেই কথা বলে গেল অনর্গল। কবিতা, গানে গল্পে আর উপন্যাসে মায়ের ভাষার প্রতি এমনই বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে গেছেন কবি সাহিত্যিকগণ। এখনও মহান মাতৃভাষা আন্দোলন নিয়ে কবি সাহিত্যিকগণ লিখে যাচ্ছেন।
মাতৃভাষার মাধ্যমে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে যে গভীর বোধ জাগ্রত হয় তা আর বিদেশী কোন ভাষার মাধ্যমে তৈরি হয় না। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ‘অমর একুশের ষাট বছর’ শিরোনামে বাংলাভাষার ওপর একটি রচনা লিখেছিলেন। ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি ওই স্মারকপত্র প্রকাশ করে।
১৯৫২ সালে ঢাকার সঙ্গেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে চট্টগ্রামে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মাহবুব-উল আলম চৌধুরী এবং যগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন চৌধুরী হারম্ননুর রশীদ এবং এম এ আজিজ। ৫২’র একুশে ফেব্রম্নয়ারিতে চট্টগ্রামের সব শিৰাপ্রতিষ্ঠানে হরতাল পালিত হয়। ঢাকায় ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের খবর আসে চট্টগ্রামে অবস’ানরত কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সাংবাদিক-সাহিত্যিক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের কাছে। জ্বর ও জলবসসেৱ আক্রানৱ ছিলেন মাহবুব-উল আলম চৌধুরী। শ্রমিক নেতা চৌধুরী হারম্ননুর রশীদ এবং আওয়ামী লীগের তরম্নণ নেতা এম এ আজিজ তাই আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন।
ঢাকায় গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রম্নয়ারি সমগ্র চট্টগ্রামে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। লালদীঘি ময়দানে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভার জনসমুদ্রে ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন চৌধুরী হারম্ননুর রশীদ। কবিতা শুনে বিৰুব্ধ জনতা সেস্নাগান দেয় ‘চল চল ঢাকা চল, খুনি লীগশাহীর পতন চাই’, ‘লীগ নেতাদের ফাঁসি চাই, নুরম্নল আমিনের কলস্না চাই’। এর কয়েকদিন পরেই সে সময়কার মুসলিম লীগ সরকার কবিতাটি বাজেয়াফত করে।

Leave a Reply