নরসিংদীতে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১২

13/02/2017 1:05 am0 commentsViews: 8

সোনালী ডেস্ক: নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন নয়জন।
রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন নাজমুল মিয়া (৩৫), তাঁর বোন সাধনা বেগম (৪০), চাচাতো ভাই হীরা মিয়া (৪০); মানিক মিয়া (৫৫), তাঁর স্ত্রী মফিয়া খাতুন (৪৫), ছেলে অন্তর আলম (১০), পুত্রবধূ শারমিন আক্তার (২৭) ; হাসান মিয়া (৩৪), তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগম (২৫), ছেলে ঈশান মিয়া (৮) ও হালিমার বোন ঝুমা বেগম (১৫)। নিহত ব্যক্তিরা মাইক্রোবাসের আরোহী ছিলেন।
তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামে। নিহত যে ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি, তিনি মাইক্রোবাসের চালক হতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন মাইক্রোবাসের আরোহী, তিনজন বাসের যাত্রী ও তিনজন পথচারী। আহত নয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাস-মাইক্রোবাসের আরোহী, প্রত্যৰদর্শী, স্বজন ও পুলিশের ভাষ্য, অগ্রদূত পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। আর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মাইক্রোবাসটি নিকলীর ছাতিরচর যাচ্ছিল। দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস’লেই মাইক্রোবাসের ১১ জন আরোহী নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মাইক্রোবাসের আরেকজন আরোহী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মাইক্রোবাসের আরোহীরা ঢাকায় থাকতেন। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা শ্রমজীবী হিসেবে কাজ করতেন। মূলত ছাতিরচর গ্রামে মেলা উপলৰে তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার পর স’ানীয় লোকজন উদ্ধারকাজ শুর্ব করেন। পরে ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ ও নরসিংদীর ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। নরসিংদীর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক, বেলাবো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুসলে উদ্দিন খান ঘটনাস’লে এসে উদ্ধারকাজ তদারকি করেন। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দড়িকান্দি গ্রামের সেলিম মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার সময় কিছুটা দূরে ছিলেন তিনি। বিকট শব্দ শুনে দুর্ঘটনাস’লে ছুটে আসেন। মাইক্রোবাসটি বাসের নিচে আটকে ছিল। মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। আর বাসটির সামনের অংশ ৰতিগ্রস্ত হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পেছনের দিকে টেনে নিয়ে মাইক্রোবাসটি বের করা হয়। মাইক্রোবাস থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনাস’লে নিহত ১১ জনের লাশ উদ্ধার করে ভৈরব হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়। দুপুরের দিকে থানা থেকে লাশ নিয়ে যান স্বজনেরা। নরসিংদী জেলা প্রশাসনের পৰ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়া হবে। ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেৰিতে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়নি। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মাইক্রোবাস হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। বাসের চালক পালিয়েছেন।

Leave a Reply


shared on wplocker.com