দেশে ক্যান্সার রোগের উন্নত চিকিৎসা প্রসঙেগ

১২/০২/২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 23

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা বিষয়ক এমন কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে যা সংশিস্নষ্ট কর্তৃপৰের জন্য ছিল সতর্কতামূলক। দেশের হাসপাতালগুলোতে যেমন ক্যান্সারের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল, তেমনি যথাযথ চিকিৎসার সঙকটও বিদ্যমান। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট বলছে, দেশে ১২ থেকে ১৪ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রানৱ। প্রতিবছর প্রায় তিন লাখের মতো মানুষ নতুন করে আক্রানৱ হচ্ছেন এই রোগে। আর বছরে মারা যায় প্রায় দেড় লাখ রোগী। এই প্রেৰাপটে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস।
বাংলাদেশে এখন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যবস’া থাকলেও মূলত ওষুধের উচ্চ মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নেয়া অত্যনৱ ব্যয়সাধ্য। বাংলাদেশে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান একবার মনৱব্য করেছিলেন এই বিশাল খরচ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সহযোগিতা দরকার। এ সংক্রানৱ এক প্রতিবেদনে উঠে আসে দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস’াপনার বিশদ চিত্র। দেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা এখনও অপ্রতুল। চিকিৎসকদের দৰতা বৃদ্ধি পেলেও অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও মেডিক্যাল উপকরণ এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ক্যান্সারের চিকিৎসা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস’াপনার মাধ্যমে দেশে বছরে ৫০ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় নিয়ে আসা গেলেও আড়ালে থেকে যায় আরও প্রায় আড়াই লাখ রোগী। বিশ্ব স্বাস’্য সংস’ার হিসাব মতে, জনসংখ্যা অনুপাতে বর্তমানে দেশে সব ধরনের সুবিধাসংবলিত ১৬০টি ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা অপরিহার্য। কিনৱু বাংলাদেশে এখন এমন কেন্দ্রের সংখ্যা আছে মাত্র ১৫টি।
ক্যান্সারে চিকিৎসার জন্য কয়েকটি ধাপ আছে, যেমন সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি। নিয়মিত ওষুধ সেবন বা ওরালথেরাপিও একটি ধাপ। এগুলোর ভেতর রেডিওথেরাপি বিশেষ ধরনের চিকিৎসা, যার জন্য বিশেষায়িত টেকনিশিয়ান দরকার। কিনৱু বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপিস্টদের সঙকট রয়েছে।
বাংলাদেশে মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট একটা নতুন বিষয়। আমাদের দেশে এই বিষয়ে কোন ডিগ্রিধারী ব্যক্তি নেই। এজন্য প্রথমে ২০০০ সালে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় হাইডেন পার্কের সঙেগ সহযোগিতা করে মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট বিভাগ খোলা হয়। এই বিভাগের উদ্দেশ্য হচ্ছে রেডিওথেরাপিস্ট ডাক্তারদের সঙেগ সহযোগী হিসেবে কাজ করা। অর্থাৎ ডাক্তাররা ডোজ বলে দেবে এবং মেডিক্যাল ফিজিসিস্টরা এই রেডিয়েশন ডোজটা শরীরের অন্যান্য অঙেগ এবং টিউমারে কতটুকু যাবে সেটা নির্ধারণ করবেন। জার্মান প্রবাসী এক বাংলাদেশি প্রফেসর দেশে ২০০০ সালে মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। বেসরকারি পর্যায়ে যে রেডিওথেরাপি মেশিন ক্রয় প্রক্রিয়া চলমান সেখানে প্রশিৰণ প্রদান করে লোকবল নিয়োগ করা জরুরি।
এটা অনস্বীকার্য যে, সরকারি হাসপাতালে উচ্চ প্রযুক্তির যে রেডিওথেরাপি মেশিনগুলো আসছে সেগুলোতে মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট যখন নেয়া হবে তখনই উন্নতমানের ক্যান্সার চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে বাংলাদেশের কোন রোগীকে ভারত, সিঙগাপুর, থাইল্যান্ড গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে না। ক্যান্সার চিকিৎসা ও প্রতিরোধে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু ক্যান্সার কী কারণে হয় সে সম্পর্কিত তথ্য আরও বেশি করে প্রচার করা হলে সচেতনতা বাড়বে। আবার ক্যান্সারের তিনটি পর্যায় রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে সেই রোগীকে সম্পূর্ণ সুস’ করে তোলা সম্ভব, দ্বিতীয় পর্যায়ের রোগীকে চিকিৎসার মাধ্যমে বহু বছর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। তাই ক্যান্সার হলেই মৃত্যু অবশ্যাম্ভাবী- এটা আর এখন ঠিক নয়। সচেতনতা ও সতর্কতা বহু ক্যান্সার রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারে।

Leave a Reply