গুলিসৱানের ফুটপাত নিয়ন্ত্রণকারী ৪০ চাঁদাবাজের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নিচ্ছে ডিএসসিসি

২৮/০১/২০১৭ ১:০৪ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 31

এফএনএস: রাজধানীর গুলিসৱান ও এর আশপাশের ফুটপাতের হকার্স মার্কেটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ৪০ জন চাঁদাবাজ। এরা এই এলাকার ফুট-পাতের দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে হকারদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করছে। এই টাকার ভাগ পুলিশ থেকে শুরম্ন করে স’ানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারাও পান বলে জানা গেছে। সমপ্রতি ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে গুলিসৱান ও এর আশপাশের ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপো-রেশন (ডিএসসিসি)। সেই সঙ্গে এই ফুটপাতের হকার্স মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে যারা চাঁদাবাজি করে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নিতে একটি তালিকা তৈরি করেছে ডিএসসিসি। এই তালিকায় ৪০ জন চাঁদাবাজের নাম-ঠিকানা রয়েছে। এরা গুলিসৱান ও আশপাশের ৪০/৪৫টি ফুটপাতের হকার্স মার্কেট তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এখান থেকে তারা প্রতি মাসে দুই কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় করে। ডিএসসিসি’র আইন শাখায় এই চাঁদাবাজদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা পাঠানো হয়েছে। আইন শাখাকে এদের বিরম্নদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ফুট-পাতে হরিদাস ও সিতানাথ দাস; বায়তুল মোকাররম মসজিদের পশ্চিম পাশের ফুটপাতে কোটন মিয়া; বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে আবদুল কাদের; গুলিসৱান আহাদ পুলিশ বক্সের উত্তর পাশে লম্বা হারম্নন; আহাদ পুলিশ বক্সের দক্ষিণ পাশে আমিন; ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের ফুটপাতে আলী মিয়া ও আবদুল গফুর; বাংলা-দেশ সংবাদ সংস’ার (বাসস) সামনে আবুল হাশেম কবির; পুরানা পল্টন আজাদ প্রোডাক্টসের সামনে দুলাল; গুলিসৱান সিনেমা হলের সামনে বাবুল; বায়তুল মোকাররম স্বর্ণের দোকানের সামনে হারম্নন; বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সোনালী ব্যাংকের সামনে আবদুস সালাম; ওসমানী উদ্যানের পূর্ব পাশে শাহজাহান, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের সামনে জজ মিয়া (মোটা জজ), গুলিসৱান ট্রেড সেন্টা-রের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে সেলিম ও ভোলা, নগর ভবনের সামনে শাহিন, জাতীয় গ্রন’াগার থেকে রেলওয়ে মার্কেট পর্যনৱ সুলতান ও লিফু, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর পাশ থেকে ক্রীড়া ভবন পর্যনৱ রহিম ও নূরম্ন, রমনা ভবনের পশ্চিম পাশে মনির ও শফিক, গুলিসৱান হল মার্কেটের উত্তর পাশে হাসান ও খোরশেদ, গুলিসৱান সোনালী ব্যাংকের সামনে মিজান ও শওকত, গোলাপ শাহ মসজিদের দক্ষিণ পাশে বাবুল ও দোলন, গোলাপ শাহ মাজার থেকে আওয়ামী লীগ অফিস পর্যনৱ সড়কের দুই পাশে স’ানীয় যুবলীগ নেতা মনির, কাপ্তান বাজার থেকে গুলিসৱান ট্রেড সেন্টার পর্যনৱ আবু সাঈদ, আল মনসুরের সামনে থেকে ট্রেড সেন্টার পর্যনৱ বিমল বাবু, খদ্দর মার্কেটের সামনে সালাম, গুলিসৱান হোটেল গার্ডেনের সামনে থেকে বাটা শো-রম্নম ও বেলপট্টি পর্যনৱ ফারম্নক এবং ওসমানী উদ্যান ও সচিবালয়ের উল্টো পাশে শাহ-জাহান। এরা প্রতিটি দোকান থেকে ৫০ টাকা থেকে শুরম্ন করে ১৫০ টাকা পর্যনৱ চাঁদা তোলে। এ ছাড়া ফুটপাতের দেড় থেকে দুই হাজার দোকান থেকে লাইট প্রতি ৩০-৪০ টাকা চাঁদা তোলে খাজা মিয়া নামের এক ব্যক্তি। গুলিসৱানের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএসসিসি বার বার উচ্ছেদ অভিযান চালালেও এই চাঁদাবাজদের সহযোগিতায় আবার ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ডিএসসিসি এই চাঁদাবাজদের বিরম্নদ্ধেও ব্যবস’া নেওয়ার সিদ্ধানৱ নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এই চাঁদাবাজদের বিরম্নদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে ডিএসসিসির আইন শাখা প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তৈরি করেছে বলে সূত্রটি জানায়।

Leave a Reply