শিরিন সুলতানা কেয়া: পদ্মা নদীর পানি গত এক সপ্তাহ ধরেই কমছে, কিন’ পানি কমার সাথে সাথে রাজশাহীর নদীপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মাঝে রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় শহর রৰা বাঁধে ধস নেমেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা।
মহানগরীর শ্রীরামপুরে এই বাঁধটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় গত মার্চে । বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এতে ধস নামায় ৰুব্ধ স’ানীয়রা। এদিকে ধস ঠেকাতে এখন জর্বরিভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে এতে কতটুকু ধস ঠেকানো যাবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন স’ানীয়রা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীরামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শহর রৰা বাঁধের টি-গ্রোয়েন এলাকায় পুলিশ লাইনের সামনের অংশে ধস নেমেছে। পাড়ের মাঝমাঝি অংশ থেকে সিসি বৱক বসানো বাঁধের এ অংশের ধস ঠেকাতে নিচের অংশে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। মাত্র ৯ মাস আগে এই বৱকগুলো বসানো হয়েছিল। এখন সেগুলো নদীর পানিতে নামতে শুর্ব করেছে। স’ানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণে এই ধস নেমেছে।
স’ানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, এ এলাকাটিতে ছোট ছোট নারিকেল গাছ ছিল। কয়েক বছর আগে ভাঙনের কবলে পড়ে গাছগুলো নদীতে ভেসে গেছে। পুলিশ লাইন ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে পড়ায় বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত শুষ্ক মৌসুমে কোটি টাকা ব্যয়ে শহর রৰা বাঁধের এ এলাকায় বেঁধে সিসি বৱক বসানো হয়। কিন’ কাজের মান খারাপ হওয়ায় এক বছর না যেতেই আবারও নদীপাড়ে ধস নেমেছে। পানি কমায় সিসি এখন বৱক খুলে পড়ছে।
রাজশাহীতে এবার টানা প্রায় এক মাস পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পর আর পানি বাড়েনি। ওই দিন পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার। নদীর পানি এভাবে বাড়তে দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছিল এবার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করবে। তবে আর পানি বাড়েনি। গতকাল দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। আর এভাবে পানি কমার কারণেই শহর রৰা বাঁধে দেখা দিয়েছে ধস।
শ্রীরামপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পানি কমতে থাকায় বৱকে ধস নামার পাশাপাশি ভাঙনও দেখা দিয়েছে। বৱক দিয়ে বাঁধানো অংশের সামান্য পূর্বে এবং টি-গ্রোয়েনের উত্তরে নদীর পাড়ে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অবস’ায় বাঁধ ও নদীপাড়ে দর্শণার্থীদের না দাঁড়ানোর জন্য বিপদ সংকেতসূচক লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। তবে ভাঙন আর বৱকের ধস দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের বন্যার সময় থেকেই টি-বাঁধের এ এলাকাটিতে ভাঙন শুর্ব হয়েছিল। এ কারণে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধটি অস’ায়ীভাবে রৰা করা হয়। স’ায়ী সমাধানে গতবছর এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বৱক দিয়ে পাড় বাঁধাই করা হয়। গত বছর কাজটি শুর্ব হয়ে এ বছর মার্চে শেষ হয়। তখন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন স’ানীয়রা। তবে তা আমলে নেয়নি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও পাউবো।
বাঁধটিতে এখন ধস নামা নিয়ে জানতে চাইলে পাউবোর রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, কাজ ভালোভাবেই হয়েছিল। কিন’ পানি কমলে ভাঙন বা ধস দেখা দেয়। এটা স্বাভাবিক। বাঁধের এ অংশ সামান্য ৰতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা দুর্ঘটনা বলা যেতে পারে। তবে এ নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। ভাঙন প্রতিরোধে তারা সব ব্যবস’া গ্রহণ করেছেন।