গীবত রোযকে নষ্ট করে দে

২৪/০৬/২০১৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 11

গীবতRomjan Logo বা পরনিন্দা মুমিনের আমলের জন্য মারাত্মক বিধ্বংসি এক রোগ। গীবত এর ভয়াবহতা সম্পর্কে মহান আলৱাহ এরশাদ করেছেন ,‘ হে ঈমানদারগণ ! তোমরা অধিকাংশ ৰেত্রে ধারণার বশবর্তী হওয়া থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয়ই কিছু ধারণা স্পষ্ট গুনাহ। আর কারো গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কর না। তোমাদের কেঊ যেন কারো গীবত না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভৰন করতে পছন্দ করবে ? বস’ত তোমরা সকলেই তো তা অপছন্দ করো। আলৱাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আলৱাহ তওবা কবুলকারী অত্যন্ত দয়ালু। ( সূরা আল-হুজুরাত : ১২ ) আলোচ্য আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে আলৱামাহ ইবনে কাসীর (র.) একটি হাদীস উদ্বৃত করেছেন। হজরত আব্দুলৱাহ ইবনে উমার (রা.) বলেন , আমি একদিন নবী করীম (স.) কে দেখলামে , তিনি কা’বা তওয়াফ করার সময় বলছেন : তুমি কত সুন্দর ! তোমার ঘ্রাণ কত সুন্দর ! কত বড় তোমার মর্যাদা ! আমি সেই মহান সত্তার নামে শপথ করে বলছি , যার হাতে আমার প্রাণ। মুমিনের মর্যাদা নিশ্চয়ই তোমার চেয়ে অনেক বেশী। মুমিনের নিন্দা করা আর মুমিনের সম্পর্কে খারাপ ধারনা করার তো অবকাশই নেই। (তাফসীরে ইবনে কাছীর : খন্ড ১০ , পৃষ্ঠা ৩৯২ )
গীবতের সংজ্ঞা : আব্দুলৱাহ ইবনে খুওআইবিত আল-মাখযুমী বলেছেন , একবার এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল , হে আলৱাহর রাসূল ! গীবত কী ? রাসূলুলৱাহ (স.) উত্তরে বললেন : কোন মানুষ সম্পর্কে তোমার এমন কিছু আলোচনা করা যেটা সে পছন্দ করে না। প্রশ্নকারী বললেন , হে আলৱাহর রাসূল ! যদি কথা সত্য হয় ? রাসূলুলৱাহ (স.) বললেন : তুমি মিথ্যা কথা বললে তো সেটা অপবাদ হয়ে যাবে। ( মুআত্তা ইমাম মালেক : ৩৬১৮ , আল-জামে লি ইবনে ওহাব : ২৯৬ ) সমস্ত মাযহাবের সকল ইমামের সর্বসম্মত মত অনুসারে গীবত হারাম। তবে প্রয়োজনে বৃহৎ স্বর্থে গীবত করা জায়েয আছে। যেমন কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের দীন-ঈমান , জীবন ও সম্পদের ৰতি সাধন করে তাহলে মানুষকে সতর্ক করার জন্য তার গীবত করা জায়েয আছে। যেমন কোন ভন্ড পীর , আদম ব্যাপরি , নারী ও শিশু পাচারকারী , চাকরি দেওয়া , বিদেশ পাঠানো ঈত্যাদি মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের টাকা আত্মষাৎকারী।
গীবতের ভয়াবহ পরিণতি : হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন ,রাসূলুলৱাহ (স.) বলেছেন : মেরাজের রাতে আমি তামার নখ বিশিষ্ট কিছু মানুষকে দেখতে পেলাম , তারা নিজেরা নিজেদেও মুখে ও বুকে চপেটাঘাত করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম , হে জিবরাঈল ! এরা কারা ? তিনি উত্তর দিলেন , এরা হল ওই সমস্ত লোক যারা দুনিয়াতে মানুষের মাংস ভৰন করত, মানুষের মানহানী করে বেড়াত ( গীবত করত)। ( তাফসীরে ইবনে কাছীর : খন্ড ১০ , পৃষ্ঠা ৩৯৭ ) কিয়ামতের দিন গীবতকারীর সমস্ত আমলের সওয়াব যাদের গীবত সে করেছিল তাদের প্রাপ্য অনুযায়ী বন্টন কওে দেয়া হবে। তাতে যদি তাদের প্রাপ্য পরিশোধ না হয় তাহলে তাদের গুনাহ গীবতকারীর আমল নামায় চাঁপানো হবে। অত:পর সে সীমাহীন পাপের বোঝা নিয়ে জাহান্নামে নীৰিপ্ত হবে।
রোযাদারের জন্য গীবতের ৰতি : হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন , একবার রাসূলুলৱাহ (স.) লোকদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন আজ তারা রোযা রাখে এবং বলে দিলেন কেউ যেন আমার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ইফতার না করে। আদেশ মত সবাই রোযা রাখল , সন্ধাবেলা এক লোক এসে বলল , আমি আজ রোযা ব্রত পালন করেছি। সুতরাং আমাকে অনুমতি দিন আমি ইফতার করি। রাসূলুলৱাহ (স.) তাকে অনুমতি দিলেন। এভাবে সবশেষে এক লোক এসে বলল , হে আলৱাহর রাসূল ! আপনার পরিবারের দুজন মহিলা আজ রোযা রেখেছে। আপনি অনুমতি দিন তারা ইফতার কর্বক। রাসূলুলৱাহ (স.) কোন উত্তর না দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। লোকটি একই কথা পুনরায় বলল। রাসূলুলৱাহ (স.) এবার বললেন : তারা রোযা রাখেনি। যারা সারা দিন মানুষের মাংস খেল , তারা রোযা রাখল কি করে ? সত্যিই যদি তারা রোযা রেখে থাকে তাহলে তুমি গিয়ে তাদেরকে বমি করতে বল। তারা তাই করল এবং উভয়ে কিছু জমাট রক্ত বমি করল। অত:পর লোকটি এসে রাসূলুলৱাহ (স.) কে সংবাদ দিলে রাসূলুলৱাহ (স.) বললেন : এ অবস’াতেই যদি তাদের মৃত্যু হত , তাহলে জাহান্নামের আগুন তাদেরকে খেয়ে ফেলত। ( তাফসীরে ইবনে কাসীর ) হাদীসটি জইফ হলেও আকীদা এবং আহকাম সম্পর্কিত না হওয়ায় উদ্বৃতি যোগ্য। সুতরাং রোযা রেখে গীবত বা পরনিন্দার অর্থ হল ইচ্ছাকৃত নিজের রোযাকে দুর্বল ও সওয়াব শূণ্য করে ফেলা এবং ভয়াবহ পরিণতি জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
লেখক : পেশ ইমাম ও খতীব , রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

Tags:

Leave a Reply