রমজানে সেহরী অত্যন্ত বরকতপূর্ণ খাবার

১৫/০৬/২০১৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ০ commentsViews: 15

Romjan Logoসেহরী আরবী শব্দটি সাহ্‌র্বন মূল ধাতু থেকে নির্গত। সাহ্‌র্বন এর বাংলা অর্থ রাত্রি জাগরণ করা। বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সমাজে সেহরী শব্দটি একটি ধর্মীয় পরিভাষা হিসেবে বহল প্রচলিত। শাব্দিক দিক দিয়ে রাত্রিকালীন খাবারকে সেহরী বলা হয়। আর ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় রোজাদার ব্যাক্তি রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষভাগে সুবহে সাদিক এর আগে যে খাবার গ্রহন করে তাকে সেহরী বলা হয়। সেহরীতে খাবারের তালিকায় যাই থাকুক না কেন সেহরী অত্যন্ত বরকতময় একটি খাবার। তাছাড়া রোজদারের জন্যে সেহরী খাওয়া রাসষলুলৱাহ (স.) এর সুন্নাত। বিশেষ করে রোজাদার রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষাংশে ঘুম থেকে জেগে খাবার গ্রহণ করা আলৱাহর বিধান পালনে বিশেষ তৎপরতা এবং আলৱাহর বিধানের সামনে নিজের আরাম আয়েশকে কুরবানী করার শামিল। একারণেই আলৱাহ রাব্বুল আলামীন রোজাদারকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই পেটে ৰুধা থাকুক বা না থাকুক সেহরী বর্জন করা মোটেও উচিত নয়। খাওয়ার চাহিদা একেবারেই যদি না থাকে তা হলেও ঘুম থেকে উঠে সামান্য হলেও কিছু খেয়ে নেয়া উচিৎ। এর দ্বারা একদিকে রাসূলের সুন্নাতের উপর আমল হবে এবং সেহরীর বরকত ও হাসিল হবে। সেহরীর ফযীলত ও বরকত সম্পর্কে রাসূলে কারীম (স.) থেকে বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। নিচে আলোচ্য বিষয়ে কয়েকটি হাদীস উলৱখে করা হল:
হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুলৱাহ (স.) বলেছেন : তোমরা সেহরী খাও। কারণ সেহরীর মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (সহীহ আল-বুখারী : ১৯২৩ , সহীহ মুসলিম : ১০৯৫ , ইবনে মাযা : ১৬৯২ ’ তিরমিযী : ৭০৮ ) হজরত আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে রাসূলুলৱাহ (স.) বলেছেন : আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হল , সেহরী খাওয়।’ (মুসলিম : ১০৯৬ , আবু দাউদ : ২৩৪৩ , আস্‌-সুনানুল কুবরা : ২৪৮৭ ,মুসনাদে আহমাদ : ১৭৭৬২ ) অর্থাৎ আহলে কিতাবগণ সেহরী না খেয়ে রোজা পালন করে অর্থাৎ তারা উপবাস চর্চা করে। তাই রাসূলের উম্মত হিসেবে প্রত্যেকটি মুসলমানের উচিৎ আহলে কিতাবদের অনুকরণ বর্জন করে রাসূলের সুন্নাত পালন করে সেহরী খেয়ে রোজা রাখা।
বলিম্বে সেহরী খাওয়া সুন্নাত ঃ বিলম্ব করে সেহরী খাওয়া সুন্নাত। অর্থাৎ রাতের একেবারে শেষভাগে সুবহে সাদিকের আগমূহুর্তে সেহরী খাওয়া সুন্নাত। তবে দেরি করার অর্থ এতটা বিলম্ব করা নয়, যে সূর্য উঠে যাওয়ার সন্দেহ হয়। হজরত যয়েদ ইবনে সাবেত (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসূলুলৱাহ (স.) এর সাথে সেহরী খেলাম অত:পর নামাজে দাঁড়ালাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, সেহরী খাওয়া ও নামাজে দাঁড়ানোর মধ্যে সময়ের কতটুকু ব্যবধান ছিল ? তিনি উত্তরে বললেন , পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার মত সময়ের ব্যবধান ছিল। (সহীহ আল-বোখারী : ১৯২১ , সহীহ মুসলিম : ১০৯৭ , মুসনাদে আহমাদ : ২১৬১৯ , সুনানে দারেমী : ১৭৩৭ , ) অনেকের ধারনা ফজরের নামাজের আযান পর্যন্ত সেহরী খাওয় যায়। এ ধারনা একেবারেই ভুল। কারণ ফজরের আযান দেয়া হয় সুবহে সাদিক এর পরে। আর সেহরীর শেষ সময় হল, সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত। অত:এব আযানের সময় পর্যন্ত সেহরী খেতে থাকলে অর্থাৎ সুবহে সাদিক এর পরে সেহরী খেলে রোজা হবে না।
বিলম্বে সেহরী খাওয়ার সুফল : বিলম্ব করে সেহরী খাওয়াতে রাসূলের সুন্নাতের উপর আমল ছাড়াও একটি বিশেষ লাভ হল, সুবহে সাদিকের আগ মূহুর্তে সেহরী খাওয়ার পরে অল্প সময়ের ব্যবধানে ফজরের আযান হয়ে যায়। তাই সেহরী শেষে তাড়তাড়ি ফজরের নামাজ আদায় করে বেশ কিছটাু সময় বিশ্রাম নেয়ার জন্যে পাওয়া যায়। বিশ্রাম শেষে দিনের স্বাভাবিক কাজ-কর্মে আত্মনিয়োগ করলে তেমন কোন অসুবিধা হয় না। বিপরিত দিকে সুবহে সাদিকের অনেক আগে সেহরী খেলে, ফজরের নামাজের জন্যে দীর্ঘ সময় অপেৰা করা বেশ কষ্টকর। আবার সেহরী খেয়ে ঘুমিয়ে গেলে ঘুম থেকে পুন:রায় উঠে নামাজ পড়াটা আরো বেশি কষ্টকর। এ অবস’াতে ফজরের নামাজ ক্বাযা হবার সম্ভাবনা থাকে বেশি। আমাদের সমাজে অনেককে দেখা যায়, সারা রাত টিভি-সিনেমা দেখে অথবা গল্প-গুজব করে , আড্ডা মেরে সময় পার করে শেষরাতে সেহরী খেয়ে ঘুমাতে যান। এটা খুবই খারাপ অভ্যাস। আলৱাহর হুকুম পালনের প্রস’তি আলৱাহর নাফরমানীর মাধ্যমে জঘণ্য পাপাচার ছাড়া অন্য কিছু নয়। তাছাড়া ঘুম থেকে উঠে খাবার গ্রহনের নামই সেহরী এবং সেটাই সুন্নাত। তবে কাউকে যদি পেশাগত দায়িত্ব পালনে অথবা কোন জর্বরি কারণে সারা রাত জেগে থাকতে হয় তার ব্যাপারটা ভিন্ন। মহান আলৱাহ আমাদের সকলকে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ফরজ আমলগুলো আদায়ের তাওফিক দান কর্বন !
লেখক : পেশ ইমাম ও খতীব , রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

Tags:

Leave a Reply