রোযা অস্বীকারকারী কাফির, বর্জনকারী ফাসিক

08/06/2016 1:07 am0 commentsViews: 15

Romjan Logoইসলামী শরিয়তের করনীয় বিধানাবলিকে গুর্বত্ব বিবেচনায় কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা (১) ফরজ (২) ওয়াজিব (৩) সুন্নাত (৪) মুস্তাহাব । ফরজ হল ইসলামের ওই সমস্ত বিধান যেগুলোর অপরিহার্যতা পবিত্র কুরআনের অকাট্ট দলীল দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। এর বিধিবদ্ধতার / অপরিহার্যতার বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই। ফরজ বিধান অস্বীকারকারী সকল ইমামের ঐক্যমতে কাফির আর ফরজ বর্জনকারী ফাসিক। ফরজকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। (ক) ফরজে আইন (খ) ফরজে কেফায়া। ফরজে আইন হল ওই সমস্ত ফরজ যেগুলো ব্যক্তিগত ভাবে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নর ও নারীর উপর ফরজ। শরীয়ত সম্মত কারণ ছাড়া ফরজে আইর বর্জন করা কবিরা গুনাহ। আর ফরজে কেফায়া হল ওই সমস্ত ফরজ যেগুলো মুসলিম জামাতের উপর ফরজ । কিছু মুসলমান আদায় করে নিলে সকলের পৰ থেকে সেটা আদায় হয়ে যাবে। আর যদি কেউই আদায় নাওে তাহলে সমাজের সকলেই সমানভাবে ফরজ তরক করার গুনাহে গুনাহগার হবে। মাহে রমজানের ত্রিশ দিন অর্থাৎ পুরো এক মাসের রোজা রাখা ফরজে আইন। কেউ কেউ বলে থাকেন , রোযা হল গরীব মানুষের ঈবাদত। কথাটা শুধু যে জঘন্য তাই নয় বরং খোদাদ্রোহীতারর শামিল। রোযা ধনী-গরীব সকল শ্রেণীর মুসলমানের উপর ফরজে আইন।
রমজান মাসের রোজা ফরজ এটা কেউ অস্বীকার করলে অথবা বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোশন করলে সে কাফির হিসেবে গণ্য হবে এ-ব্যাপারে সমস্ত ইমাম একমত। পবিত্র কুরআনে রোজার সম্পর্কিত নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট। এরশাদ হয়েছে,‘হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বর্তী লোকদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করাত পার’। (সূরা আল-বাক্বারা : ১৮৩) আলোচ্য আয়াতে রোজা পালনের নির্দেশসহ এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংৰিত আলোকপাত করা হয়েছে। পরবর্তী আয়াতে এরশাদ হয়েছে,‘ রোজার বিধান তো কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য। অতএব তোদের মধ্যে যারা অসুস’ হয়ে পড়ে অতবা সফরে  থাকে (যে কারণে রোজা পালন করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে সে ওই দিনগুলির রোজা ছেড়ে দেবে) এবং পরবর্তী সময়ে উক্ত দিনগুলির রোজা গুণে গুণে আদায় করে নেবে। আর যার জন্য রোজা পালন করা একেবারেই অসাধ্য হবে সে রোজার পরিবর্তে মিসকীনকে খাদ্য দান করে ফিদইয়া আদায় করবে। আর যে নিজ ইচ্ছায় সৎকাজ করে সেটা তার জন্য অধিক কল্যানকর। আর সফররত (অবস’ায়) যদি তোমরা রোজা রাখ , তাহলে সেটা তোমাদের জন্য বেশি কল্যানকর ,যদি তোমরা তা উপলব্ধি করতে পার’। (সূরা আল-বাক্বারা : ১৮৪) আলোচ্য আয়াতে  সমস্যায় নিপতীত ও রোগাগ্রস্ত লোকদের রোজার বিধাণ সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে ,‘ রমজান হল সে মাস যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, মানব জাতির হেদায়েতের জন্য এবং হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্য নির্ধারণের জন্য। অতএব তোমাদের মধ্য হতে যে এ মাসটি পাবে সে অবশ্যই তাতে রোজা রাখবে। আর যে অসুস’ হবে অথবা সফরে থকবে , সে  পরবর্তী সময়ে ছেড়ে দেয়া রোজাগুলো গুণেগুণে আদায় করে নেবে। আলৱাহ তোমাদের জীবন যাত্রাকে সহজ করে দিতে চান , তিনি তোমাদের উপর কঠোরতা আরোপ করতে চান না। তোমরা অবশ্যই নির্দিষ্ট গণনা পূর্ণ করবে আর তোমাদেরকে হেদায়েত দেয়ার জন্য আলৱাহর বড়ত্ব বর্ণনা করবে এবং তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করবে। (সূরা আল-বাক্বারা : ১৮৫) আলোচ্য আয়াতে মাহে রমজানের মাহত্নের মূল কারণ কুরআন এবং এর বিধানালোকে জীবন গঠনই মানুষ্য সমাজের শান্তি ও সমৃদ্ধির সত্যিকার সোপান সে দিকে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে রমজানের সিয়াম সাধনার আসল উদ্দেশ্য ইসলামের সার্বিক বিধিমালা পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার একটি কার্যকর অনুশীলন। আমাদের সিয়াম সাধনা গতানুগতিক ধারায় না হয়ে জীবনের গতী পরিবর্তনের , সমাজ বিণির্মানের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন হয়ে উঠুক সেটাই আমাদের  একান্ত কামনা।
লেখক : পেশ ইমাম ও খতীব , রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

Tags:

Leave a Reply