জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকির মুখে খাদ্যনিরাপত্তা/ অধিক অর্থের আশায় আম উৎপাদনের দিকেই ঝুঁকছেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা

24/05/2014 1:08 amViews: 5

001তৈয়বুর রহমান: পানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের শস্য ভান্ডার নামে পরিচিত উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা এখন হুমকির মূখে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মাটির গভীর তলদেশ থেকে পানি উত্তোলনের ফলে সারা উত্তরাঞ্চল জুড়ে পানির সৱর আশংকাজনক হারে নিচে নেমে গেছে। এ অবস’ায় ধান উৎপাদন করে প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় এবং আম উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় ধানের পরিবর্তে আমচাষের দিকে ঝুঁকছেন রাজশাহীর ভূমি মালিকরা। এ অবস’ায় এখনই ব্যবস’া না নিলে এবং কোন সুষ্ঠু কৃষি নীতি প্রণিত না হলে হুমকিতে পড়তে পারে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা।
কৃষি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, কোন সুষ্ঠু কৃষি নীতি না থাকায় উত্তরাঞ্চলে অবাধে গড়ে উঠছে আম-বাগান। এর ফলে কমে গেছে ধান, গমসহ খাদ্য আবাদী জমির পরিমাণ। ওই সূত্র মতে, রাজশাহীতে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ১লাখ ৮৫ হাজার ৬শত ৬৬ হেক্টরে। যা ২০১০ সালে রাজশাহীতে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৮ শত ০৩ হেক্টর। ইতোমধ্যে আমবাগান তৈরিতেই চলে গেছে ১৪ হাজার ০৫ হেক্টর জমি। অর্থাৎ চাষ-যোগ্য জমির সাড়ে ৭ শতাংশ জমি এখন আমচাষিদের  দখলে। ২০১০ সালে কৃষকরা যেখানে ২ লাখ ২ হাজার ৮ শত ০৩ হেক্টর জমিতে চাষ করে ধান উৎপাদন করেছিলেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ৩ শত ৩৭ মে.টন। আর ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার ৩শত ০৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করে উৎপাদন করেছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪ শত ৩৫ মে. টন। একই সাথে রাসৱা-ইটভাটা, চাতাল ও বাড়িসহ অন্যান্য কাজে চলে যাচ্ছে আরো চলে যাচ্ছে ১ থেকে দেড় শতাংশ জমি। এর ফলে ১০ শতাংশ ভূমি হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের কাছ থেকে। বিভিন্ন উদ্ভাবিত জাতের ধান দিয়ে উৎপাদনের লৰ্য-মাত্রা স্বাভাবিক রাখলেও কৃষকের কাছ থেকে কমে গেছে ২২ হাজার ৪শত ৯৫ হেক্টর চাষযোগ্য জমি।
সূত্র মতে, ভূমির উপরসৱরের পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে আবাদ জমি যদি রৰা করা যেতো  তা হলে ৭৩ হাজার ৯ শত ২ টন খাদ্যশস্য আরো বেশী উৎপাদন হতো। একারণে গত ৩ বছরে ৭৩ হাজার ৯ শত ০২ টন খাদ্যশস্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট ইউনিয়নে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিৰক “এ্যাকশন এইচ বাংলাদেশ”-এর এক গবেষণা চালি-য়ে দেখেছেন যে, খরা মওসুমে পানির অভাবে ধান উৎপাদনে বেশী খরচ হওয়ায় আবাদী জমিতে ধান উৎপাদন ছেড়ে দিয়ে সেই জমিতে আম উৎপাদন শুরম্ন করেছেন। সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ আবাদী জমিতে আমবাগান তৈরি করেছেন কৃষকরা। একই ভাবে রাজশাহীর বাঘা চারঘাট ও গোদাগাড়ী উপ-জেলাতেও অপতিরোধ্য গতিতে বেড়েই চলেছে আমবাগানের সংখ্যা। এর ফলে ঐ সমসৱ এলাকায় ১৫ থেকে ২০ হাজার খেত মজুর কাজ হারাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
১৯৬০ সাল থেকে বাংলাদেশে গভীর নলকুপের সাহায্যে চাষাবাদ শুরম্ন হয়। কিন’ বরেন্দ্র অঞ্চলে চাষাবাদ শুরম্ন হয় ১৯৯২ সালে। বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপৰের ২০১২ এর অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৪ হাজার ৬ শত ২০ টি গভীর নলকূপ বসানো হয়। ভূগর্ভস’ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পানির সৱর ক্রমশ: নিম্নমূিখ হয়ে পড়েছে।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ হতে সংগৃহীত ২০ বছরের উপাত্তসমূহ হতে দেখা গেছে যে, বর্ষা মৌসুমে পানি তলদেশের উচ্চতা ১৭-২০ মিটার আর শুষ্ক মৌসুমে পানির গভিরতা থাকে মাত্র ৭-১০মিটার। এ অঞ্চলের অধিকাংশ নদ-নদীর প্রবাহ না থাকায়  উচ্চতা বৃদ্ধি পেযেছে। রাজশাহী অঞ্চলে ৭০ হাজার পুুকুর থাকলেও কিছু ভুমি গ্রাসীদের কবলে পড়ে তার অধি-কাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সারা উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে এই খরা মৌসুমে দেখা দেয় চরম পানি সঙ্কট। এ অবস’ায় ভূমির মালিকদের অনেকেই ধান চাষের চেয়ে আম চাষকে অধিক লাভ মনে করে সেদিকেই ঝুঁকছেন।

Leave a Reply


Developed by ASTGD For email marketing solution view Valid Email Collector