খানিকটা সময় লাগলেও মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করে ভারত। নয়াদিলিৱর সাউথবৱকের সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার বিকল্প যে নেই, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে একমত ভারত। আর সে কারণেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর জন্য সেদেশে আবাসনসহ বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে তারা। ভারতের বিশ্বাস, বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাৰিকভাবেই এই সংকট মেটাতে পারবে।
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ভিকে সিং বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুদেশের সঙ্গেই আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরাও চাই এই সমস্যাটির সমাধান হোক। সে কারণে আমাদের প্রথম বিবেচ্য বিষয় হলো তাদের (রোহিঙ্গা) মিয়ানমারে ফেরানোর পরিবেশ তৈরি করা। আমরা সে জন্য মিয়ানমার যে ধরনের সহায়তা চায়, তা দিচ্ছি। অন্যদিকে এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকেও তাদের সাময়িক আশ্রয় দেয়ার জন্য সাধ্যমতো সহায়তা করছি।
দেশটির বিদেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) বিক্রম দোরেস্বামী সমপ্রতি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ঘুরে গেছেন। তিনি বলেন, অনেক মানুষ সেখানে এসেছে। তাদের অনেক রকম সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর মনে হয়েছে, বাংলাদেশের পদৰেপ। বিশেষ করে বাংলাদেশি বন্ধুরা ইস্যুটিকে যেভাবে সামলাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
সাউথবৱকের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুটি জাতিসংঘ, মানবাধিকার কমিশন থেকে শুর্ব করে আন্তর্জাতিক যত ফোরামেই আলোচিত হোক, শেষাবধি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকেই এর সমাধান করতে হবে। সামপ্রতিক ভূরাজনীতির গতিপ্রকৃতির কারণেই এখানে তৃতীয় কোনো পৰের মধ্যস্থতায় খুব বেশি ফল দেবে না। সে কারণে ভারত চাইছে, দুই দেশ দ্বিপাৰিকভাবেই সমস্যার সমাধান কর্বক।
দুই দেশের মধ্যে এব্যাপারে যে চুুক্তি হয়েছে, তাতেও অগ্রগতি দেখতে চায় ভারত। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, সমস্যা সমাধানে সময় লাগবে বলে ভারত মনে করলেও এই প্রক্রিয়াকে অতিমাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী করার পৰে নয় তারা। এর সবচেয়ে বড় কারণ, প্রক্রিয়া যত দীর্ঘ হবে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি ততো বাড়বে। সাউথবৱকের নীতি নির্ধারকরা এই ঝুঁকি বাড়াতে চান না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। লেখক : সাংবাদিক