রোকেয়া সিদ্দীকা তনু: পানি ব্যবস্থাপনায় একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে রাজশাহী পানি ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপৰ (ওয়াসা)। এজন্য আজ বৃহস্পতিবার সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প উঠছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়।
রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুলতান আব্দুল হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ওয়াসা এমডি বলেন, এখন ঢাকাতেই আছি। প্রকল্পটি আগামীকাল (আজ) একনেকে উঠছে। আশা করছি, প্রকল্পটা পাস হয়ে যাবে। এটা রাজশাহীবাসীর জন্য একটা বড় পাওয়ার বিষয় হবে।
প্রকল্পটির নাম ‘রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার’। গত ১১ সেপ্টেম্বর এই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়েছে। সংশিৱষ্টরা বলছেন, একনেকে পাস হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজশাহী নগরবাসীর পানির সমস্যা আর থাকবে না। পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনের পর পানযোগ্য করে তোলার কারণে চাপ কমবে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপরেও।
রাজশাহী ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রকল্পের খসড়া সম্পন্ন করা হয়। পরের বছর চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাৰর হয়। নানা কারণে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। তবে প্রকল্পটি যেন দ্র্বত পাস করা যায় তা নিয়ে লেগে থাকেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। দীর্ঘদিন পর এবার প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, চীনের একটি ব্যাংকের অর্থায়নে এ পানি শোধনাগার নির্মাণ করবে রাজশাহী ওয়াসা। সেটি স্থাপন করা হবে রাজশাহী নগরী থেকে প্রায় ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারেংপুরে। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে নগরী ও এর আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হবে। পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়াও পানি সরবরাহ করা হবে গোদাগাড়ী ও পবার কাটাখালি এবং নওহাটা পৌরসভা এলাকায়। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ পাবেন আয়রন ও কেমিকেলমুক্ত নিরাপদ পানি।
সংশিৱষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ওয়াসার পানির পুরোটিই এখন ভূ-গর্ভস্থ। সেই কারণে পানিতে আয়রনসহ কিছু ৰতিকর পদার্থ থেকে যায়। এগুলো কোনোভাবেই বিশুদ্ধ করা সম্ভব হয় না। ফলে এই পানি মানুষের চুল, দাঁত, ত্বকসহ শরীরের নানা ৰতি করছে। শুধু তাই নয়, বালতি, পোশাকসহ নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রেও লেগে থাকছে পানির আয়রনের হলুদ ছাপ। তাই ভূ-গর্ভস্থ পানি ছেড়ে উপরস্থ পানি শোধন করে নগরবাসীকে সরবরাহ করতে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে ওয়াসা। তাছাড়া রাজশাহী অঞ্চলে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নিচে নামছে। পদ্মা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে বিশুদ্ধ করা হলে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি সবার কাছেই বেশ গুর্বত্ব পেয়েছে।
ওয়াসার এমডি সুলতান আবদুল হামিদ জানান, প্রকল্পের টাকা দিয়ে শোধনাগার স্থাপন ছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন পাইপলাইন বসানো হবে। পুরনো পাইপলাইনগুলোও নতুন করে স্থাপন করা হবে। নির্মাণ করা হবে নতুন একটি দশতলা ভবনও। প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় চার বছর। এরপর নগরীতে আর পানির কোনো সংকট থাকবে না।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনভুক্ত এলাকার জন্য ২০১০ সালের ১ আগস্ট ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছরের ১০ মার্চ থেকে রাজশাহী ওয়াসার কার্যক্রম চলছে। এখন নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের ১০৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৭৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে ওয়াসা। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষে পুরো নগরীর মানুষ ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন।