স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে সঞ্চয় হচ্ছে। কিন্তু সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে দেশের অন্য স্থানে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না হওয়ার কারণে এখানে বিনিয়োগ হচ্ছে না। শুধু পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচের কারণে বিনিয়োগকারীরা রাজশাহী আসছেন না। তাই কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। এখানে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে প্রয়োজন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
চতুর্থ উন্নয়ন মেলা উপলৰে আয়োজিত এক সেমিনারে আলোচকরা এসব কথা বলেছেন। রাজশাহী কলেজ মাঠে আয়োজিত এ মেলার মঞ্চে গতকাল শনিবার দুপুরে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘রাজশাহীর বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্চসমূহ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপৰের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আবদুল হাকিম, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. লিয়াকত আলী, রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মনির্বজ্জামান মনি, সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেণী, উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রোজিটি নাজনীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বক্তারা বলেন, রাজশাহী থেকে পণ্য পরিবহন করে দেশের অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার খরচ বেশি। তাই নদী ড্রেজিং করে নৌপথে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা দরকার। সেটি সম্ভব না হলে অন্তত রেলপথে পণ্য পরিবহন সহজ করতে হবে। তাহলে রাজশাহীতে বিনিয়োগ হবে। শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এর পাশাপাশি যেন বিদেশে পণ্য রপ্তানি করা যায় সে জন্য রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে কার্গো বিমানের ব্যবস্থা করতে হবে।
তারা বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে শ্রম সস্তা। এ অঞ্চল কৃষি পণ্যের ভা-ার। কৃষিভিত্তিক অনেক শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু শিল্পে অনেক দিন গ্যাস দেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই বিদ্যুতেরও। তাই ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের সাহস পান না। আবার তাদের ঋণ দিতেও অনাগ্রহ রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। এসব কারণেও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে এ অঞ্চলে পর্যটনকে ঘিরেও বিনিয়োগ হবে। কিন্তু এখন নানা প্রতিকূলতার কারণে রাজশাহী অঞ্চল পিছিয়ে পড়ছে।
রেশম শিল্পের মাধ্যমেও রাজশাহীতে শিল্পের বিকাশ ঘটতে পারে উলেৱখ করে বক্তারা বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের সিল্কের ঐতিহ্য দেশব্যাপী। এ শিল্পের দেখাশোনার জন্য বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ও রাজশাহীতে। তাই এখানে রেশম শিল্পেরও বিকাশের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য এইখাতে অধিকহারে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করা এখন জর্বরী হয়ে পড়েছে।
সেমিনারে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ৰমতায় আসার পর গোটা দেশে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু যেখানে বন্দর রয়েছে, অবকাঠামোগত সুবিধা আছে সেসব অঞ্চল বেশি এগিয়েছে। পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা বাজেট প্রয়োজন। সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে। জেলা বাজেট প্রণয়ন হলে রাজশাহীর উন্নয়নে যা যা করার দরকার তা করা হবে।