এফএনএস: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদের বির্বদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা রায় আবারো পিছিয়েছে গেছে। শিলংয়ের বিচারিক হাকিম ডি জি খারশিংয়ের আদালতে গতকাল শুক্রবার এই রায় ঘোষণার কথা থাকলেও বিচারক রায় না দিয়ে ১৫ অক্টোবর নতুন তারিখ রাখেন বলে সালাহ উদ্দিন আহমেদের আইনজীবী এপি মহন্তে গণমাধ্যমকে জানান।
তিনি বলেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিচারক আসেননি। নতুন তারিখের আদেশ পাঠিয়ে দিয়েছেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদও তিনদিন আগে ঢাকা থেকে শিলংযে পৌঁছান। তিনিও গতকাল শুক্রবার আদালতে ছিলেন। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে ঢোকার অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় তিন বছর ধরে এ মামলা চলছে সালাহ উদ্দিনের বির্বদ্ধে। অভিযোগ প্রমাণ হলে এ আইনে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদ-ের বিধান রয়েছে। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের দাবি, তাকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। আর কোন পথে কীভাবে তিনি শিলংয়ে পৌঁছেছিলেন, সে তথ্যও ভারতীয় পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি।
সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে কঙবাজারের সংসদ সদস্য হন এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের টেলিকম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদও সংসদ সদস্য ছিলেন। নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে ২০১৫ সালের শুর্ব থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা অবরোধ-হরতালের মধ্যে সালাহ উদ্দিনের অন্তর্ধান নাটকীয়তার জন্ম দেয়। সে সময় তিনি ছিলেন দলের পাঁচ যুগ্ম মহাসচিবের একজন। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে এক মাসের বেশি সময় ধরে বিএনপির নামে বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচি দিচ্ছিলেন সালাহ উদ্দিন।
এরইমধ্যে ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী। স্বামীর খোঁজ চেয়ে পরদিন গুলশান থানা ও উত্তরা থানায় জিডি করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে সে সময় অভিযোগ করেন হাসিনা আহমেদ। সরকারের ‘নির্দেশে’ আইন শৃংখলারৰাকারী বাহিনীর সদস্যরাই সালাহউদ্দিনকে ‘নিয়ে গেছে’ বলে সে সময় বিএনপির পৰ থেকে অভিযোগ করা হয়। তবে সরকারের পৰ থেকে সে অভিযোগ তখন নাকচ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে তাকে আটক করতে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সালাহ উদ্দিনের অন্তর্ধানে তার দলের ‘হাত রয়েছে’ বলেও সে সময় ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী। স্বামীর খোঁজ চেয়ে উচ্চ আদালতে যান সাবেক সাংসদ হাসিনা আহমেদ। পুলিশের পৰ থেকে আদালতকে বলা হয়, তারাও এই বিএনপি নেতার কোনো খোঁজ জানে না। ঢাকা থেকে ‘উধাও’ হওয়ার দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে হদিস মেলে সালাহ উদ্দিনের। ওই ব্যক্তি পুলিশকে বলেন, তার নাম সালাহ উদ্দিন আহমেদ; তিনি বাংলাদেশি। কিন্তু ভ্রমণের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুদিন কারাগার ও হাসপাতালে কাটানোর পর স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় জামিন পান সালাহ উদ্দিন। কিন্তু ভারত ছাড়ার অনুমতি না থাকায় স্ত্রী ও কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে শিলং শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকতে শুর্ব করেন। ২০১৬ সালে অসুস্থতার কারণে দিলিৱ গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসেন এই বিএনপি নেতা। পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিতে চাইলেও তাতে শিলংয়ের আদালতের সায় মেলেনি। ফরেনার্স অ্যাক্টের এ মামলার তদন্ত শেষে মেঘালয় পুলিশ ২০১৫ সালের ৩ জুন সালাহ উদ্দিনের বির্বদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। সেখানে বলা হয়, ভারতে এই বিএনপি নেতার আকস্মিক উপস্থিতি ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিত’। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিচার এড়াতে তিনি ভারতে এসেছেন। ওই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ২২ জুলাই শিলংয়ের আদালত সালাহ উদ্দিন আহমেদকে অভিযুক্ত করে তার বিচার শুর্ব করে।
শিলংয়ের আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আই সি ঝাকে উদ্ধৃত করে নাগাল্যান্ড পোস্টের খবরে বলা হয়, এ মামলার বিচার আদালত সালাহ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্য রেকর্ড করে এবং তাকে পরীৰা করা দুই চিকিৎসকসহ দশজনের সাৰ্য শোনে। সালাহ উদ্দিন আহমেদের আইনজীবী এপি মহন্তে বলেন, সাড়ে তিন বছরে এ মামলার রায়ের তারিখ চার বার পেছানো হয়েছে। এ আইনের মামলায় এত সময় নেওয়ার ঘটনা ‘বিরল’।