রিমন রহমান: পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনটি রাজশাহী-২। এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর এই আসনে ১৯৯১ সালের পর প্রথম নৌকার জয় হয় ২০০৮ সালের নির্বাচনে। সেবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করে এমপি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির তৎকালীন পলিট ব্যুরোর সদস্য ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
২০১৪ সালের নির্বাচনেও দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এক সময়ের রাজশাহী কাঁপানো তুখোড় এই ছাত্রনেতা। টানা দুই মেয়াদে জোটের এমপি থাকায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডে শক্ত প্রভাব বিস্তার করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির এই কেন্দ্রীয় নেতা। তাই আপাতত তার বাইরে কোনো ভাবনা নেই আওয়ামী লীগের। সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের নানা বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ফলে আসছে নির্বাচন জোটগতভাবে হলে তারই নৌকা প্রতীক পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছেন ১৪ দলের নেতারা।
তারা জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে রাজশাহী সদরে বর্তমান এমপি ফজলে হোসেন বাদশার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। কেননা, দুই মেয়াদে এমপি থেকে বাদশা রাজশাহীর উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এ অঞ্চলের মানুষকে উজ্জ্বীবিত করতে তার অবদান অসামান্য। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতেও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করেন। এছাড়া দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই আর সংগ্রামের অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ ফজলে হোসেন বাদশার প্রতিও রয়েছে মানুষের অগাধ ভালোবাসা। এ আসনের ভোটাররা তাকে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই জানেন। তাই আসছে নির্বাচনে তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে মনে করছেন ১৪ দলের নেতাকর্মীরা।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্র আন্দোলন দিয়ে এমপি ফজলে হোসেন বাদশার সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুর্ব। আশির দশকে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। এ সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপির দায়িত্বও পালন করেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি সদরের এমপি হিসেবে নানা প্রতিশ্র্বতিও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বন্ধ করে দেয়া রাজশাহী বিমানবন্দর চালু করেন। বন্ধ রেশম কারখানাও পরীৰামূলকভাবে তিনি চালু করেছেন। ফজলে হোসেন বাদশা তার নির্বাচনী অঙ্গিকারে এ দুটি প্রতিষ্ঠান চালুর প্রতিশ্র্বতি দিয়েছিলেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার বির্বদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগও ওঠেনি। বর্তমানে বাদশার আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজশাহীতে আইটি ভিলেজের কাজ এগিয়ে চলেছে। এটি চালু হলে ১৪ হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া পরোৰভাবে কর্মসংস্থান হবে আরও ৫০ হাজার মানুষের। এমপি বাদশা নগরীর প্রায় প্রতিটি শিৰা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করেছেন। সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কাজের থোক বরাদ্দের অর্থ দিয়ে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেও তিনি সবার মন জয় করেছেন। এ সমস্ত বিষয়গুলো বাদশার ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
সম্প্রতি সিটি মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন ও কাউন্সিলরদের সংবর্ধনা দেন এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। সে অনুষ্ঠানে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়ক এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন বলেন, আগামী পাঁচ বছর আমি আর সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। দুজনে রাজশাহীর জন্য অনেক মেগা প্রকল্প আনব। পাঁচ বছরে আমরা ১০-১৫ বছরের কাজ করব। যে যে দলের মতাদর্শী হোক না কেন, আমাদের নীতি শুধু উন্নয়ন। উন্নয়নের রাজনীতি হবে, দলবাজি নয়। আমাদের ঐক্যটাকে ধরে রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতার এমন বক্তব্যের পর দলীয় নেতাকর্মীরা ধরেই নিয়েছেন যে আসন্ন নির্বাচনে বাদশাই হচ্ছেন নৌকার মাঝি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী গতকাল দুপুরে বলেন, ফজলে হোসেন বাদশা ওয়ার্কার্স পার্টির বড় পদে আছেন। জোটগত কারণে যে আসনেই হোক তিনি মনোনয়ন পাবেন। তবে তিনি যেহেতু রাজশাহী সদরে দুই বার এমপি হয়ে আছেন সেহেতু এখানেই তার অগ্রাধিকার বেশি। এমনটি সবাই মনে করে, আমরাও মনে করি। তবে সবকিছুই চূড়ান্ত হবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডে। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বিষয়টি ঠিক করবেন।
আসন্ন নির্বাচনে নিজের মনোনয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, জোটগতভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক। এই সম্পর্কের কারণে এবং রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে আগামী নির্বাচন জোটগতভাবে হবে। এই নির্বাচনে আমি মনোনয়ন পাব বলে আশা রাখি। রাজশাহীর নবনির্বাচিত মেয়র খায়র্বজ্জামান লিটনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আগামীতেও রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করতে পারব। এতে রাজশাহীর উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাদশা বলেন, শিৰাৰেত্রে রাজশাহীর উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু শিল্পৰেত্রে পিছিয়ে আছে। রাজশাহীর বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের দরকার। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য রাজশাহীতে পোশাক কারখানাসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়গুলো রাজশাহীবাসীর কাছে উত্থাপন করেছি। তারা আমার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। আর এ কারণে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাধারণ ভোটাররা আমাকে আবার নির্বাচিত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।