বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের অভিমূখে এমন বিস্ময়কর যাত্রা শুর্ব করেছে, অজান্তেও কেউ যার ভবিষ্যৎ অনুমান করতে পারেনি। দেশের মানুষ এখন বিদেশি খয়রাতি বা রিলিফের চাল খাই না। বরং সাম্প্রতি ১০ লাখ টন করে দুই-তিন কিস্তিতে দু’টি দেশকে রিলিফ দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন বহির্বিশ্বে রিলিফ চেয়ে বেড়ায় না, রিলিফ পাঠায়।
অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের যদি নায়ক বাছাই করতে হয়, আমি বলবো, সেখানে আমি থাকবো না, আপনি থাকবেন না, এখানকার কেউ থাকবে না। থাকবে শুধু বাংলার কৃষকরা। কৃষকরাই বাংলাদেশের সত্যিকারের নায়ক। কারণ পেটে ভাত না থাকলে, আপনি যতই আইবিএ, এমবিএ’র ডিগ্রি নিয়ে যতোই ঘুরে বেড়ান না কেনো, কোনো লাভ হবে না। এটাই বাস্তবতা।
ইউজিসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাঙালির স্মৃতি হলো গোল্ড ফিসের মতো। গোল্ড ফিস যেমন সাঁতার কেটে একপাশ থেকে অন্যপাশে যেতেই পিছনের কথা ভুলে যায়, বাঙালি জাতিও একই রকম। যারা এদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল, তাদেরকে স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। অথচ বাংলাদেশে তারা দেদারসে রাজনীতি করে যাচ্ছে। চিহ্নিত ৭ জন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
গতকাল শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) গ্রাজুয়েটদের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড .শাহ্‌ নেওয়াজ আলী, রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইবিএ’র পরিচালক অধ্যাপক একে শামসুদ্দোহা।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক এম. শাহ্‌ নওয়াজ আলী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে ব্যবসার ৰেত্রে এ ইনস্টিটিউটি নেতৃত্ব দেবে। তর্বণ সমাজকে নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য গ্রাজুয়েটদের জ্ঞান সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তৃতায় রাবি উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, শুধুমাত্র বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করে সফল হওয়া যায় না। সফলতার জন্য দৰতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন। তোমরা যারা আজ ডিগ্রি গ্রহণ করলে, তোমাদের মধ্যে যেন কোনো ধরনের কূপমন্ডুকতা না থাকে। আপনি শিৰিত কিনা তা বুঝা যাবে, আপনি কতটা পরিশিলীত, কতটা পরিমার্জিত, কতটা দেশ প্রেমিক তার উপর। ডিগ্রি অর্জনের পরও যদি কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি বা কূপমন্ডুকতা থাকে, তবে তোমাদের এ অর্জন অসাড় হয়ে পড়বে।
সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রামের ৫ম ৬ষ্ঠ ও ৭ম ব্যাচের ১ শো ৬জন, সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রামের ১১, ১২ ও ১৩তম ব্যাচের ৮৫জন, দিবাকালীন এমবিএ প্রোগ্রামের ৬ষ্ঠ ৭ম ও ৮ম ব্যাচের ১১৭জন ও বিবিএ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এমবিএ প্রোগ্রামের ৬ষ্ঠ ৭ম ও ৮ম ব্যাচের ১ শো ৩২ জনসহ মোট ৪ শো ৪০জন শিৰার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া ১২জন শিৰার্থীকে বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।