রিমন রহমান: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান তাদের মাঝে দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুর্ব হয়েছে। তাই নৌকার মাঝি হতে ঢাকায় গেছেন রাজশাহীর নেতারা। রাজশাহীর ৬টি আসনের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ জন নেতা মনোনয়ন ফরম কিনলেও তারা কেউ এলাকায় ফেরেননি।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ আগে এসব নেতা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তবে এক সপ্তাহ আগে তারা ঢাকামুখী হয়েছেন। বিভিন্ন আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যরাও এলাকায় নেই। আসছে নির্বাচনে দলের টিকিট নিশ্চিত করতে তারাও ঢাকায় অবস্থান করছেন। নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ঢাকায় ব্যস্ত লবিংয়ে।
ইতিমধ্যে যেসব নেতার মনোনয়ন ফরম কেনার কথা জানা গেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফার্বক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফার্বক চৌধুরী গতকাল শনিবার দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে তার মনোনয়ন ফরম জমাও দিয়েছেন।
অন্য যেসব নেতারা মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তাদের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনের জন্য রয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মতিউর রহমান, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য একেএম আতাউর রহমান খান, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বদর্বজ্জামান রবু ও মকবুল হোসেন, গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনির্বল ইসলাম বাবু এবং জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব জেমস। তারা সবাই এখন ঢাকায়।
রাজশাহী-২ আসনের জন্য শুধু নগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। গত দুই সংসদ নির্বাচনে তিনি জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পান। এখানে এবার নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে গতকাল দুপুরে ডাবলু সরকার জানিয়েছেন, তিনি মনোনয়ন ফরম তুলবেন না। ফলে আওয়ামী লীগ এবারও ফজলে হোসেন বাদশার প্রতি ভরসা রাখতে চাইছে বলে মনে করছেন মহাজোটের নেতাকর্মীরা।
এদিকে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন এবং সংরৰিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আক্তার জাহান ছাড়াও আরও ৭ জন নেতা মনোনয়ন ফরম তুলেছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেরাজ উদ্দিন মোলৱা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলফোর রহমান, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম এবং জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী মর্জিনা পারভীন।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক নৌকার আশায় এবারও দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদারও এই আসনের প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। রাজশাহী-৩ আসনের জন্যও তিনি মনোনয়ন ফরম তুলবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে রাজশাহী-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও জিনাতুন নেসা তালুকদার ছাড়াও বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির্বল ইসলাম সান্টু এবং তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদও এই আসনের প্রার্থিতার আশায় দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনেও ৭ নেতার মনোনয়ন ফরম কেনার খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য নুর্বল ইসলাম ঠান্ডু, সাবেক সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফার্বক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মনসুর রহমান, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ওবায়দুর রহমান এবং ব্যবসায়ী আবু সায়েম।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এ আসনে নির্বাচনের আশায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলুও দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারাও এখন অবস্থান করছেন ঢাকায়। মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা এখন ঢাকায় অবস্থান করায় রাজশাহী জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে অনেকটাই সুনশান নিরবতা। কার মনোনয়ন চূড়ান্ত হচ্ছে তা জানার জন্য অপেৰা করছেন কর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, তিনি রাজশাহী-৩ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। এরপর তিনি ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে কিছু কর্মী-সমর্থকও আছেন। তাদের নিয়ে গতকাল দুপুরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আগামী কয়েকদিন তার ঢাকায় থাকার সম্ভাবনা আছে। রাজশাহী-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশি আহসানুল হক মাসুদও একই কথা জানিয়েছেন। গতকাল তিনিও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে।
সংশিৱষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা শুর্ব হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেয় এই সংসদীয় বোর্ড। বোর্ডের এই সভায় ফরম বিক্রির শেষ সময় এবং জমা নেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হবে। এই সভায়ই নির্ধারণ করা হবে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া। এরপর ধারাবাহিক সভা করে ৩০০ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
নিজের জন্য মনোনয়ন ফরম তুলেছেন, এমন রাজশাহীর এক নেতা বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাশী সব নেতাই ঢাকায় শেষ মুহুর্তের লবিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু কোন আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যসহ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কার অবস্থা কী, সে তথ্য হাইকমান্ডের কাছে রয়েছে। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন। জরিপ রিপোর্টের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।