শিরিন সুলতানা কেয়া: দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুর্ব হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের ধ্বনিতে সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের মনে বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার। বছর ঘুরে আবার দেবী দেখতে গতকাল সোমবার থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তরা। ‘আনন্দময়ী’ দেবী দুর্গার আগমনী গানে এখন মুখরিত চারদিক। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভূজা দেবী দুর্গা শান্তি প্রতিষ্ঠার লৰ্যে প্রতি শরতে কৈলাস (স্বর্গ) ছেড়ে কন্যারূপে মর্ত্যলোকে (পৃথিবীতে) আসেন। সন্তানদের নিয়ে পৰকাল পিতার ঘরে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। এ বছর দেবী দুর্গা শ্বশুরালয় থেকে বাবার বাড়িতে এসেছেন ঘোড়ায় চড়ে। আর ফিরে যাবেন দোলায় চেপে।
গতকাল সকালে রাজশাহী নগরীর কয়েকটি ম-প ঘুরে দেখা গেছে, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পূজা অর্চনা হচ্ছে। প্রতিটি ম-পেই সনাতন ধর্মাবলাম্বী মানুষের ভিড়। গতকাল ষষ্ঠী তিথিতে বিহিতপূজার পর দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মূল দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় ম-পে ম-পে হয়েছে বোধন বা দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা পূজা।
সনাতন ধর্মাবলাম্বীরা আজ মঙ্গলবার মহাসপ্তমীর সকালে চৰুদানের মধ্য দিয়ে ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ করা হবে ত্রিনয়নী দেবীর প্রতিমায়। ভোর ৬টার দিকেই এই মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল বুধবার মহাষ্টমী, সন্ধিপূজা ও কুমারী পূজা। বৃহস্পতিবার নবমী পূজা। শুক্রবার পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন সকালেই। পরে বিকালে প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের শারদীয় এই দুর্গোৎসব।
এদিকে বৃহস্পতিবার একই দিন মহানবমী ও বিজয়া দশমীর তিথি পড়লেও শুক্রবার বিজয়া শোভাযাত্রা করে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। একটি বছরের জন্য কৈলাসে দেবালয়ে ফিরে যাবেন ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবী। ফিরবেন আবার এক বছর পর। এ বছর দেবীর আগমনের ঘোড়া ও দোলা অমঙ্গল হিেেসবে ধরা হলেও দেবী সবার জন্যই মঙ্গল কামনা করবেন বলে বিশ্বাস সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের।
রাজশাহীতে এবার ৪৫৮টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরের ভেতরে ম-পের সংখ্যা ৮০টি। দুর্গোৎসব উপলৰে ম-পগুলোতে প্রতিদিনই অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ-আরতি হচ্ছে এছাড়া আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও থাকছে।
এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস’া। প্রতিটি ম-পের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রৰা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় প্রতিটি ম-পে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।