স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতি দমন কমিশন যেসব মামলা তদন্ত করে তার ৭২ শতাংশ আসামিদের শাস্তি হয়। দুদক কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজশাহীতে শ্রেষ্ঠ জেলা, মহানগর ও উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির মাঝে পুরস্কার বিতরণ উপলৰে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম বলেন, দুদক এখন আগের চেয়ে গতিশীল। দুর্নীতির মামলায় এখন শাস্তির হার ৭২ শতাংশ। ১০০টি মামলার মধ্যে ৭২টি মামলায় শাস্তি হয়। আমরা আশা করছি শতভাগ মামলায় শাস্তি দিতে পারব। সেই মনোভাব নিয়ে আমরা কাজ করছি।
দুদক কমিশনার বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেয়ার আগে ১০০ মামলা হলে ৩৭টি মামলায় শাস্তি হয়েছে। অপরাধীরা বুক উঁচু করে ঘুরে বেড়াতো। বলতো, দুদক আমাদের কিছু করতে পারেনি। এখন সেই দিন নেই। দুর্নীতি করলে এখন বিচার হচ্ছে। এটি আমাদের কর্মকর্তাদের আবদান। পাশাপাশি বিচারক এবং রাষ্ট্রপৰের আইনজীবীদেরও অবদান। আমরা এভাবেই দেশ থেকে দুর্নীতি বিতাড়িত করতে চাই।
দুর্নীতি বন্ধ হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে উলেৱখ করে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি কমায় দেশে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন, যখন দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পুরো ফাইলপত্র আমি দেখেছি। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পুরোপুরি মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন দুদকের পরিচালক (প্রতিরোধ) মনির্বজ্জামান, রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমিনুল ইসলাম ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন দুদকের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আবদুল করিম। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের।
আলোচনা শেষে নাটোর জেলা, সিরাজগঞ্জের উলৱাপাড়া, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে পুরস্কৃত করা হয়। এসব কমিটির মধ্যে নাটোরের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ও উলৱাপাড়ার সভাপতি রেজাউন কবীর পারভেজ সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।