বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারি চাকরি পাবে না মাদকাসক্তরা। কারণ সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে সব প্রার্থীরই স্বাস্থ্য পরীৰার সময় ডোপ টেস্ট করা হবে। ফলে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইনের মতো মাদকে আসক্তরা সরকারি চাকরি পাবে না। কারণ ডোপ টেস্টে তা ধরা পড়বে। পশ্চিমা অনেক দেশের আদলে খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সংশিৱষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সমপ্রতি এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি বার্তা সংস্থা।
সংশিৱষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয় দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সতর্ক ও সচেতন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। মূলতঃ অভিভাবকদের টনক নড়ানোর জন্যই এসব উদ্যোগ নেয়া হয়। তার মধ্যে মাদকাসক্তদের সরকারি চাকরিতে অযোগ্য করার জন্য ডোপ টেস্ট পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ অন্যতম। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সারসংৰেপ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী ওই সারসংৰেপ অনুমোদন করেন। আর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রৰায় এ উদ্যোগ প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার। সচেতন মহল মনে করে শুধু নিয়োগের ৰেত্রে নয় যারা চাকুরিতে বহাল আছে এমনদেরও ডোপ টেস্ট করা হলে তা জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। এ প্রসঙ্গে জহিরউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমরা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে জানতে পেরেছি সরকারি-বেসরকারি চাকুরীতে কর্মরত আছেন যাদের কেউ কেউ মাদকসেবী। কাজেই শুধু চাকুরী প্রত্যাশিদেরই নয় যারা চাকুরিতে নিয়োজিত আছেন তাদেরও ডোপ টেস্ট হওয়া প্রয়োজন। যদি এটি শুর্ব করা যায় তাহলে তা মাদক নিয়ন্ত্রণে আরো বেশি সফলতা বয়ে আনবে।
এ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি সিভিল সার্জনের অফিসেই সরকারি চাকরির মৌখিক পরীৰায় উত্তীর্ণের পর চূড়ান্ত বাছাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীৰা করতে হয়। এখন তার সঙ্গে যোগ হবে ডোপ টেস্ট। ডোপ টেস্টের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। ল্যাবে সরাসরি রক্ত ও প্রশ্রাব পরীৰায় মাদকের কিছু লৰণ ধরা পড়ে। আবার দ্র্বতগতিতে মুহূর্তেই সন্দেহজনক মাদকাসক্তদের পরীৰা করার জন্য বর্তমানে অত্যাধুনিক মানের বিশেষ কিট রয়েছে, যা শরীরে স্পর্শ করা মাত্রই নেগেটিভ পজেটিভ রেজাল্ট দেবে। তবে আপাতত প্রতিটি জেলা পর্যায়ে রক্ত ও প্রস্রাব পরীৰার মাধ্যমেই মাদকাসক্ত শনাক্ত করা হবে। ধাপে ধাপে বিশেষ ইকুইপমেন্ট ও কেমিক্যালস যোগান দেয়া হবে। মূলত দেশজুড়ে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সমাজে কোনঠাসা করার মতো শাস্তি দেয়ার মানসিকতা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা হলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া উচ্চশিৰিত তর্বণ সমাজই নয়, চাকরি প্রত্যাশি বেকাররাও আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যাবে। সরকারি চাকরি পেতে হলে মাদক ছাড়তে হবে, নইলে বেকার থাকতে হবে। পিয়ন থেকে বিসিএস ক্যাডার- কেউ এ শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না।
সূত্র আরো জানায়, উচ্চশিৰিত বেকার যুবকদের অনেকেই হতাশা থেকে মাদকাসক্ত হয়। মেধার জোরে তাদের অনেকেই পরে বিসিএস-এর মতো কঠিন পরীৰাতেও টিকে যায় এবং তারা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীৰায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগদান করে। মাদকাসক্তি ডোপ টেস্টের পর আর সেই সুযোগ থাকছে না। ডোপ টেস্ট ছাড়া যখন চাকরি পাওয়া যাবে না, তখন বাধ্য হয়েই নিজের প্রয়োজনেই তর্বণরা মাদক থেকে দূরে থাকবে। কারণ একজন মেধাবী যখন সবকটা পরীৰায় উত্তীর্ণ হয়ে শুধু ডোপ টেস্টের কারণে বাদ পড়বে, তখন সে নিজ পরিবার ও সমাজের কাছে ধরা খেয়ে যাবে। যা হবে ওই পরিবারের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এমন কঠিন পরিণতির কথা ভেবেই চাকরিপ্রার্থীরা মাদক থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হবে। যারা মাদকাসক্ত হয়ে গেছে তারা সরে আসবে ওই পঙ্কিল পথ থেকে। সচেতন মহল মনে করে ইতিমধ্যেই মাদকাসক্তদের অনেকেই চাকরিতে নিয়োজিত আছেন। যারা লালন পালন করবে অন্যদের। কাজেই শুর্ব হতে হবে গোড়া থেকে। প্রধানমন্ত্রির এই প্রসংশনীয় উদ্যোগ যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়। তাহলে দেশ মাদকের অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসবে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই ড্রাগ এডিক্টদের ঘৃণার চোখে দেখা হয়। অনেক দেশেই তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অবাঞ্ছিত করা হয়। সরকারি চাকরিতেও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
এখন এদেশেও ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে অবশ্যই তা মাদক নির্মূলে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। কারণ ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার মতো মাদক কেউ শুধু একবার খেয়েই ছেড়ে দেয় না। কিংবা মাসে দু’একবার খায় না। ওগুলো যারা খায় তারা নিয়মিতই খায়। প্রতিদিন তাদের খেতে হয়। তারা হার্ডকোর ড্রাগস এডিক্টস বা পেশাদার মাদকাসক্ত বলে চিহ্নিত। ডোপ টেস্টে তা ধরা পড়বেই।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ডোপ টেস্টের উদ্যোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হলেও বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর স্বাস্থ্য পরীৰা করাটা বাধ্যতামূলক। তার সঙ্গে যোগ হবে শুধু মাদকের ডোপ টেস্ট। যেখানেই স্বাস্থ্য পরীৰা হবে সেখানেই থাকবে ডোপ টেস্টেরও ব্যবস্থা। আসলে তা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। এখন কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে কাজ চলছে। সচেতন মহল দেশের কল্যাণে যত দ্র্বত সম্ভব এই সিদ্ধান্ত বাস্তয়ানে কার্যকর উদ্যোগ কামনা করে। এত করে চাকুরিপ্রত্যাশি এবং কর্মরতদের সংশোধন হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।