স্পোর্টস ডেস্ক: ২০০৬ সালের নভেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। অনেক পথ পেরিয়ে মোহাম্মদ মিঠুন টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখলেন আরেক নভেম্বরে। মাঝে পার হয়ে গেছে এক যুগ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন ৮৮ ম্যাচ। টেস্ট ক্যাপ পেয়েই গড়ে ফেললেন একটি রেকর্ড।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে রোববার টেস্ট ক্যাপ পেয়েছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও মিঠুন। বাংলাদেশের ৯১ ও ৯২তম টেস্ট ক্রিকেটার এই দুজন। তবে একটি জায়গায় মিঠুনের নাম উঠে গেছে সবার ওপরে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট অভিষেক হলো তারই।
কুষ্টিয়ার ছেলে মিঠুনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল সিলেটের হয়ে রাজশাহীর বিপক্ষে, ২০০৬ সালের ২১ নভেম্বরে। ক্রমে জায়গা করে নিয়েছেন নিজ বিভাগীয় দল খুলনায়। জায়গা পাকা করেছেন। বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ও ‘এ’ দলে খেলেছেন। টি-টোয়েন্টি হয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে এসেছেন। গত কিছুদিনে ওয়ানডে দলের গুর্বত্বপূর্ণ অংশও হয়ে উঠেছেন। এবার সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পেলেন টেস্ট ক্রিকেটে।
মিঠুনের আগে রেকর্ডটি ছিল নাজিম উদ্দিনের। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের আগে চট্টগ্রামের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান খেলেছিলেন ৮১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে অভিষিক্ত আরিফুল হক টেস্টে পা রেখেছিলেন ৭৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে।
অপেক্ষা অবসানের বিশ্বরেকর্ডটি আরও বিস্ময়কর। ১৯০৬ সালে লেস্টারশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম খেলেছিলেন ইউয়ার্ট অ্যাস্টিল। ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পা পড়ে তার ১৯২৭ সালে। ততদিনে খেলে ফেলেছেন ৪২৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ!
চারশর বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল আরও একজনের। তিনিও ইংল্যান্ডের। লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার জোসেফ ভাইন ক্যারিয়ারে দুটি টেস্ট খেলেছেন ১৯১২ সালে। ততিদনে তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়োর ১৬ বছরের, খেলেছেন ৪০৩টি ম্যাচ।
এর উল্টো স্বাদও আছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একটিও ম্যাচ না খেলে সরাসরি টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয়েছে ৩৩ জনের। এই তালিকার সবশেষ তিনজনের দুইজনই বাংলাদেশ।
মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাজমুল হোসেন, দুই পেসারের অভিষেক টেস্টই ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাদের প্রথম ম্যাচ।
২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মাশরাফির, ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে নাজমুলের। এরপর প্রথম শ্রেণিতে না খেলে টেস্ট অভিষেক হয়নি বিশ্ব ক্রিকেটেই আর কারও।