এফএনএস: সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া মৃত্যুদ-ের সাজা পুনর্বিবেচনার যে আবেদন করেছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল রোববার এই রায় দেয়। এই রয়ের ফলে এ মামলার সব আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হল, আর সাইফুলের জন্য প্রাণদ-ের সাজাই বহাল থাকল।
তবে সংবিধান অনুযায়ী, দ-িত এই আসামি এখন কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিৰা চাইতে পারবেন। সেই আবেদনও খারিজ হয়ে গেলে সাইফুলের মৃত্যুদ- কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না। ২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী (৪৫)। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকা-ের দুই দিন পর পুলিশ গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আর সাড়ে চার মাস পর সাইফুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের পরিচয় দেওয়া হয় ‘ছিনতাইকারী’ হিসাবে। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। সেখানে গ্রেপ্তার চারজনের সঙ্গে সেলিম চৌধুরী নামে পলাতক আরেকজনকে আসামি করা হয়। খালাফ আল আলী খালাফ আল আলী সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি ঢাকার ৪ নম্বর দ্র্বত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকেই মৃত্যুদ- দেন। কিন্তু আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজার্বল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর যে রায় দেয়, তাতে কেবল সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদ- কার্যকরের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি চার আসামির মধ্যে বিচারিক আদালতে ফাঁসির আদেশ পাওয়া আল আমীন, আকবর আলী ও রফিকুল ইসলামের দ- কমিয়ে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদ-। পলাতক সেলিম চৌধুরী খালাস পান।
হাই কোর্টের রায়ে বলা হয়, অভিযুক্তরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাকাতি করতে ওই ঘটনা ঘটায়। হত্যাকা-ের জন্য তারা সবাই দায়ী। আল আমিন ও খোকনের স্বীকারোক্তি অনুসারে দেখা যায়, পয়েন্ট ২২ বোরের রিভলবার দিয়ে সাইফুল ফায়ার করে। এতে তিনি আহত হয়ে পরে মারা যান। তবে সেলিমের বির্বদ্ধে তেমন কোনো সাৰ্য প্রমাণ না থাকায় আদালত তাকে খালাস দেয় বলে সে সময় জানিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোরশেদুল আলম। হাই কোর্টের ওই রায়ের বির্বদ্ধে ২০১৪ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপৰ। অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর আপিল খারিজ করে দেয়। ওই রায়ের ফলে সাইফুলের মৃত্যুদ- এবং তিনজনের যাবজ্জীবন সাজার আদেশ বহাল থাকে। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মৃত্যুদ-ের এই আসামি চলতি বছর আবেদন করলে গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হয়। রিভিউ আবেদনের শুনানিতে সাইফুলের পৰে ছিলেন আইনজীবী আখতার হামিদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপৰে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।
সাইফুলের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মোতালেব হাওলাদার।