শিরিন সুলতানা কেয়া: মহা অষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। কিন’ রাজশাহীতে একটিমাত্র ম-পে এই পূজা উদযাপন হয়। তাই নগরীর সাগরপাড়া এলাকার ‘ত্রিনয়নী’ পূজাম-পে সকাল থেকেই ভিড়। বেলা ১১টার দিকে দেবীর আসনে বসে ১০ বছরের ঐন্দ্রিলা সরকার। শুর্ব হয় নারীত্বের জয়গান।
গতকাল বুধবারের এ পূজায় ‘কুমারী দেবী’ হওয়া ঐন্দ্রিলা সরকার লাল টুকটুকে বেনারসি পরে আসে। তার বাবার নাম মনোজ। আর মায়ের নাম শ্বাশতী সরকার। ঐন্দ্রিলা নগরীর শহিদ নজমুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গতবছরও সে কুমারি পূজায় মায়ের আসনে বসেছিল।
এবার দেবীর আসনে বসার পরপরই শুর্ব হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। শুর্বতেই গঙ্গাজল ছিটিয়ে তাকে পরিপূর্ণ শুদ্ধ করে তোলা হয়। এরপর ‘কুমারী মা’র চরণযুগল ধুয়ে তাকে বিশেষ অর্ঘ্য প্রদান করা হয়। অর্ঘ্যের শঙ্খপাত্র সাজানো হয়েছিল গঙ্গাজল, বেল পাতা, আতপ চাল, চন্দন, পুষ্প ও দুর্বাঘাস দিয়ে।
ত্রিনয়নী মন্দিরে গত ১৫ বছর ধরে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কুমারী পূজার একমাত্র আয়োজক এ মন্দিরে অর্চনা করতে গতকাল সকাল থেকেই কুমারী মেয়েদের ঢল নামে। পূজা-অর্চনার জন্য অপেৰা করতে থাকে কুমারীরা। পরে তিথি অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় পূজা শুর্ব হয়। পূজা করান পুরোহিত দেবব্রত চক্রবর্তী।
সনাতন শাস্ত্রমতে, কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে। কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবরা মহাকালীর শরণাপন্ন হন। সে সব দেবতাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই পৃথিবীতে কুমারী পূজার প্রচলন শুর্ব হয়।
গতকাল অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস দিয়ে হয় ‘কুমারী’ মায়ের পূজা। অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পরানো হয় পুষ্পমাল্য। পূজা শেষে প্রধান পূজারি দেবীর আরতি দেন এবং তাকে প্রণাম করেন। সবশেষে পূজার মন্ত্রপাঠ করে ভক্তদের মধ্যে চরণামৃত বিতরণের মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হয়।
এদিকে মহা অষ্টমীতে নগরীর প্রতিটি মন্দির ও পূজাম-পে ঢাকের বোল, মন্ত্র ও চ-ীপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে কেঁপে ওঠে। একই সঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা অর্চনা ও পুষ্পাঞ্জলি দেন সনাতন ধর্মাবলাম্ব্বীরা।
বিভিন্ন পূজা ম-প ঘুরে দেখা যায়, ভক্তদের ঢল। চ-ীপাঠ, উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর, ঢাকের বোলে মুখর হয়ে ওঠে পূজাম-পগুলো। ম-পগুলোতে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। মহা অষ্টমী উপলৰে সন্ধ্যায় পূজাম-পগুলোতে আরতি, ভক্তিমূলক সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে নবমী পূজা। আগামীকাল শুক্রবার পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন। পরে বিকালে প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের শারদীয় এই দুর্গোৎসব। রাজশাহীতে এবার ৪৫৮টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।