বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ব্যাপারে নয়াদিলিৱর নীতিনির্ধারকদের মনোভাব পুরোপুরি নেতিবাচক। যুক্তরাষ্ট্রে অবস’ানরত সিনহা ভারত সফর করে সেখানকার উচ্চপদস’ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, তা সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে সাউথবৱকের সূত্রগুলো। উপরন’ নিজের আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে সিনহা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে যেভাবে ভারতকে জড়িয়ে কথা বলেছেন, সেটিকেও ভালোভাবে নিচ্ছে না নয়াদিলিৱ।
সাউথবৱকের প্রভাবশালী একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে অসি’তিশীলতা তৈরির জন্য একটি পৰ সিনহাকে ব্যবহার করতে চাইছে বলে তথ্য রয়েছে নয়াদিলিৱর কাছে। সে কারণেই তার ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে ভারত।
সমপ্রতি নয়াদিলিৱ সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সাউথবৱকে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ভিকে সিংয়ের সঙ্গে সাৰাতকালে সিনহা প্রসঙ্গে ভারতের অবস’ান জানতে চান। প্রতিমন্ত্রী এর জবাবে বলেন, “তিনি (সিনহা) যদি ভারতে আসতে চান, তাহলে আমরা সবার আগে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ নেবো। তারা যে পরামর্শ দেবেন, আমরা সেটিকে অগ্রাধিকার দেবো। একটা বিষয় স্পষ্ট যে, ভারতে এসে বাংলাদেশের ব্যাপারে আপত্তিকর কোনো কাজ করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। কারণ, আমরা কোনোভাবেই চাই না আমাদের দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এ ধরনের ইস্যুতে ৰতিগ্রস’ হোক।”
সে রাতেই দিলিৱর তাজ প্যালেস হোটেলে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করে সেদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার ডেস্কের যুগ্ম সচিব বিক্রম দোরেস্বামী ছিলেন সেখানে। নৈশভোজে ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরাও অংশ নেন। সেখানেই ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়ি উঠে আসে এসকে সিনহার প্রসঙ্গ। দিলিৱর একটি ইংরেজি দৈনিকের কূটনৈতিক সম্পাদক জানান, বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধান বিচারপতি দিলিৱর সাংবাদিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। পরিচিতদের মাধ্যমে তিনি তাদের কাছে বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য এখন আর মোটেই নিরাপদ নয়। যদিও দিলিৱর ওই সাংবাদিকের দাবি, এখনো বাংলাদেশের বাস্তবতা সিনহার দাবির সঙ্গে মেলে না। ফলে তারা ধারণা করছেন, সিনহা বিশেষ কোনো পৰের হয়ে খেলছেন।
আগের রাতে প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ায় নৈশভোজে অংশ নিয়ে এমনই ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় সেখানকার কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছিলেন, সামপ্রতিক সময়ে বিএনপির পৰ থেকে নয়াদিলিৱর সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগ করা হয়েছে। ৰমতায় গেলে তারা ভারতকে অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘু বিষয়ক একটি পৃথক মন্ত্রণালয় করবে বলেও দলটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দিলিৱকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন। এরপরেও অবশ্য নয়াদিলিৱর কাছ থেকে আশাব্যঞ্জক সাড়া মেলে নি বলে বিএনপির ওই নেতাদের কেউ কেউ ভারতীয় সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছিলেন। দিলিৱর সাংবাদিকদের একটি বড় অংশের ধারণা, সিনহার সামপ্রতিক তৎপরতাও বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক মহলের পরিকল্পনার অংশ। সে কারণেই তার জন্য ভারতে এসে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বির্বদ্ধে তৎপরতা চালানো সহজ হবে না বলে মনে করেন তারা। (লেখক : সাংবাদিক)।