তৈয়বুর রহমান: রাজশাহী সদর আসনের এমপি হিসেবে ফজলে হোসেন বাদশার কোন বিকল্প দেখে না নগরবাসী। স্বাধীনতার পর রাজশাহীকে এগিয়ে নিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহিদ এএইচএম কামার্বজ্জামান। এখন সংসদ সদস্য বাদশার হাত ধরে নগরীর রাস্তা-ঘাটসহ শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নও ঘটেছে সমান তালে।
নগরীর স্কুল- কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগা মাঠ, কবরস’ান, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও শ্মশান সর্বত্রই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। দশ বছর আগে যা ছিল জরাজীর্ণ এখন তা নতুন আঙ্গিকে সেজেছে। এর ফলে শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিৰক-শিৰার্থীদের যেমন পাঠ দানে ও পাঠ গ্রহণে মনোনিবেশ বেড়েছে তেমনি মসজিদ-মন্দিরে ধর্ম চর্চার সুযোগও বেড়েছে মসলিৱ ও পুরোহিতদের। এদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক বছর ধরে চলছে নগরীর সকল শিৰা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নযজ্ঞ। শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোথাও দোতলা, কোথাও তিন তলা আবার পাঁচ ও ছয় তলা ভবন নির্মাণ হয়েছে এবং হচ্ছে। এ কয়েক বছর আগে যে শিৰা প্রতিষ্ঠান ছিল জরাজীর্ণ। এখন সেখানে বহুতল ভবন দৃশ্যমান। ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন শিৰা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীবৃন্দ ও এর সাথে সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰ। এর পিছনে যেমন রয়েছে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর শেখ হাসিনার সহযোগিতার হাত তেমনি রয়েছে জননেতা বাদশার আন্তরিকতা ও কর্মদৰতা।
২০১৩ সালে এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন রাসিক মেয়র পদে পরাজিত হওয়ার পরে নগরীর উন্নয়ন ধমকে দাঁড়িয়েছিল। গত পাঁচ বছর রাজশাহীবাসীর উন্নয়ন নিয়ে দিন কেটেছে উৎকণ্ঠায়। নগরী তখন উন্নয়নের মহাসড়ক থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। ঠিক তখনই হাল ধরেন বাদশা। সে সময় থেমে থাকেনি বাদশার উন্নয়ন কর্মকা-। তিনি নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যেমন তার বরাদ্দ থেকে ২০ কোটি টাকা দিয়েছেন, নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নিজস্ব বরাদ্দ থেকে ৫০ কোটি টাকা দিয়েছেন।
নগরীর সৌন্দর্যকরণে ফুটপাত তৈরি বাবদ ২০ লাখ টাকা, প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ থেকে নগরীর পিছিয়েপড়া বস্তি ও হরিজন জনগোষ্ঠী, শহিদ মিনার নির্মাণ, মসজিদ নির্মাণ,শাহমখদুম মাজারের উন্নয়ন বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেশবপুর ভেড়িপাড়া জামে মসজিদের জন্য ৭০ লাখ টাকা, রাসিকের ৪ নং ওয়ার্ডের বোলনপুর বস্তি, ৭নং ওয়ার্ডের শ্রীরামপুর বস্তি, ২৪ নং ওয়ার্ডের বাজে কাজলা বস্তিসহ ৩টি বস্তির উন্নয়নের জন্য ৬০ লাখ টাকা, নগরীর চার, ছয়,সাত ও এগার মোট ৪টি ওয়ার্ডের হরিজন পলৱীর উন্নয়নের জন্য ৬০ লাখ টাকা,টি বাঁধ সংলগ্ন বধ্যভূমি উন্নয়ন ও স্মৃতিস্তম্ভ ৩০ লাখ টাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ১৯৫২ সালের প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য ৫০ লাখ টাকা, হযরত শাহমখদুম মাজারের গেট নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৫০লাখ টাকা, গোলজার বাগ ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা,ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলের মাঠ উন্নয়ন ১ লাখ, পঞ্চবটি মহাশ্মশান ঘাট উন্নয়নে ৪০ লাখ টাকা, রাজশাহী বড় মসজিদের উন্নয়ন ৬০ লাখ টাকা, মনিবাজার অডিটোরিয়ামে এসি স’াপন, সাউ-বক্স সিস্টেম এবং আসন ব্যবস’ার কাজে ১ কোটি ২০লাখ টাকা, রাজপাড়ার মর্তুজা ড্রাইভারের বাড়ি হতে ফসিউলৱার বাড়ি পর্যন্ত গলিপথের উন্নয়নে ২১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, শহিদ এএইচএম কামার্বজ্জামানের সমাধির উন্নয়নে ১৫ লাখ টাকা, ৪ নং ওয়ার্ডের হড়গ্রাম বাজারের প্রধান রাস্তা হতে সিটি মার্কেটের পেছনে সিসি রাস্তা, আরসিসি ড্রেন ও সৱাব নির্মাণ কাজের জন্য ১২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন।
অবকাঠামোর উন্নয়নের ফলে বদলে যাচ্ছে নগরীর শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর চেহারা। নগরীর শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সর্বমোট ২৫৪ টি কাজ শেষ হয়েছে ইতোমধ্যে। চলমান রয়েছে ৭২ টি কাজ। অতীতের চেয়ে বর্তমানে উন্নয়ন হয়েছে ৩ গুণ। উন্নয়নের সফলতা মোট কাজের এক তৃতীয়াংশ। এ তথ্য রাজশাহী শিৰা প্রকৌশল অধিদপ্তরের। এ সম্পর্কে রাজশাহী শিৰা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী নিয়াজ আহমেদ বলেন, আগে শিৰা প্রতিষ্ঠানের কাজ হতো সংস্কারমূলক। এখনকার কাজের ধরন পাল্টে গেছে।
ইতোমধ্যে চলছে নগরীর শিৰা প্রতিষ্ঠানগুলোর একশ’দশ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিৰা প্রতিষ্ঠান। ৩ বছরের মধ্যে এ কাজ শেষ করার কথা। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরো রয়েছে রাজশাহীর সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের উন্নয়ন। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৩ টি সরকারি কলেজ। রাজশাহী কলেজের ১০ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ১২ কোটি টাকা, নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী সিটি কলেজ ও রাজশাহী মহিলা কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য ১৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ। এ তথ্য ও শিৰা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রের।
শুধু এখানে শেষ নয়, জননেতা বাদশার প্রচেষ্ঠায় রাজশাহী শিৰা প্রকৌশল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশল কার্যালয়ের অধিন ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ চলছে উপশহরস’ মহিলা কলেজের নতুন ভবনের নির্মাণ। এছাড়া ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কলেজিয়েট হাইস্কুল, পিএন গার্লস হাইস্কুল, ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, হেলেনাবাদ গার্লস হাইস্কুল, শিরোইল সরকারি হাইস্কুল ও সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন নির্মাণ। এর সাথে রয়েছে নগরীর বেসরকারি হাইস্কুল, বেসরকারি কলেজের উন্নয়নও।
এদিকে ১০ টি বেসরকারি হাইস্কুলের উন্নয়নের জন্য ২৭ কোটি টাকা এবং ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি বেসরকারি হাইস্কুলের উর্ধ্বমুখী উন্নয়ন কাজ চলছে । অর্থবরাদ্দ থেকে ৪ টি হাইস্কুল ও ২ টি বেসরকারি কলেজের এক তলা ভবন নির্মাণ কাজের জন্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
দেশের ঐতিহ্যবাহি কলেজগুলোর অন্যতম হচ্ছে রাজশাহী কলেজ। কলেজের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক গেট। এ তথ্য রাজশাহী শিৰা প্রকৌশল অধিদপ্তরের। ইতোমধ্যে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী কলেজের একশ’ সিটবিশিষ্ট ছাত্রীদের হোস্টেল ও ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একশ’ সিটবিশিষ্ট ছাত্র হোস্টেলের কাজ শেষ হয়েছে। নগরীর বরেন্দ্র কলেজ, মেট্রোপলিটন কলেজ, শহিদ কামার্বজ্জামান ডিগ্রি কলেজ, বঙ্গবন্ধু কলেজ, রাজশাহী কোর্ট কলেজসহ অধিকাংশ কলেজের ্‌উন্নয়ন জননেতা বাদশার হাত ধরেই হয়েছে। সেখানে এখন নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন।
নগরীর পাঁচ শতাধিক মসজিদের সাহায্য ও মন্দিরের উন্নয়ন, নগরীর ৬টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় ৪ থেকে ৬তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুর্ব হয়েছে। ইতোমধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স’াপন হয়ে গেছে। ৬টি মাদ্রাসার মধ্যে নগরীর দার্বস সালাম মাদ্রাসা, মসজিদ-ই-নূর দাখিল মাদ্রাসা, মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা,তালাইমারী দার্বল উলুম আলিম মাদ্রাসা, রাজশাহী দার্বস সালাম কামিল মাদ্রাসা, রাজশাহী মহিলা আলিম মাদ্রাসা ও দার্বস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়নও এগিয়ে চলেছে।
রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য বাদশার উন্নয়ন কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যৰ মুকাদ্দাসুল ইসলাম বলেন, আমার ৩৫ বছরের চাকরি জীবনে শিৰা প্রতিষ্ঠানের এধরনের উন্নয়ন কখনও দেখিনি। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের উন্নয়ন আগে কখনও হয়নি।
এ সম্পর্কে মসজিদ-ই-নূর-দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টে-ন্েট শরিফুল ইসলাম বলেন, এই মাদ্রাসার বয়স প্রায় ৪০ বছর হতে চলেছে। এর আগে মাদ্রাসার এ ধরনের কোন উন্নয়ন হয়নি। আমরা কল্পনা করতে পারিনি যে এমপি বাদশা মাদ্রাসাগুলোর জন্য এতকিছু করবেন। আমরা চাই দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে জননেতা বাদশা এমপি হিসেবে পুনরায় নির্বাাচত হয়ে আসুক।