এফএনএস: শিল্প ও বাণিজ্য গতিশীল করতে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ‘সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ’ নামে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স’ানান্তর করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিমসটেক করিডোর, সার্ক করিডোরসহ আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণ ত্বরান্বিত হবে। ভবিষ্যতে উপআঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য মহাসড়কের উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ২১টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে এক বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট মহাসড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে এবং সার্ক হাইওয়ে করিডোরের একটি গুর্বত্বপূর্ণ অংশ। এটি উপআঞ্চলিক বাণিজ্য সমপ্রসারণ ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান করিডোর। সে জন্য ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণের জন্য যে বিনিয়োগ প্রকল্প নেওয়া হবে, তার লিংক প্রকল্প হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটি স’ানান্তর কার্যক্রম শেষ করা প্রয়োজন। এই প্রকল্প এশিয়ান হাইওয়ের অংশ হিসেবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ সহজ করবে। একনেকে ২১টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ১৯ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১৭ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সংস’ার নিজস্ব তহবিল ২৩৩ কোটি ৯৩ লাখ এবং বৈদেশিক প্রকল্প সাহায্য ২ হাজার ২২৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। একনেকে ‘কুমিলৱা কেন্দ্রীয় কারাগার পুনঃনির্মাণ’, ‘৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’, ‘দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন’, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন’ ও ‘বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্রোগ্রাম’ প্রকল্প অনুমোদনের দেওয়া হয়েছে। ‘সৌর বেস স্টেশন স’াপনের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটক নেটওয়ার্ক কভারেজ শক্তিশালীকরণ’, ‘কেরাণীহাট-বান্দরবান জাতীয় মহাসড়কের যথাযথ মান, প্রশস্ততা ও উচ্চতায় উন্নীতকরণ’, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’, ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের ৭টি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’, ‘সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১২০০ মে.ও. আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স’াপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম’, ‘পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংযোগ সড়ক ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব থ্রি হ্যাল্ডলুম সার্ভিস সেন্টারস ইন ডিফারেন্ট লুম ইনটেনসিভ এরিয়া’, ‘বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, নরসিংদী এর আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সমপ্রসারণ’, ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ পলৱী অবকাঠামো উন্নয়ন’, ‘গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ’, ‘চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের চর-বাগাদী পাম্প হাউস ও হাজিমারা রেগুলেটর পুনর্বাসন’, ‘রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন’ ও ‘মহিষ উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একনেক হয়েছে। এছাড়াও ‘কক্সবাজার জেলা উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কার্যক্রম জর্বরি সহায়তা’ এবং ‘কুমিলৱা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে একনেক সভায়। কুমিলৱা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ভূমি অধিগ্রহণ ও নতুন ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এক হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কুমিলৱা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় এক হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যার পুরোটাই জিওবি। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়িত হবে। যেখানে প্রকল্পের এলাকা উলেৱখ রয়েছে কুমিলৱা সদর দক্ষিণ। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে উচ্চ শিক্ষার জন্য উন্নততর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরণের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন সংকট হ্রাস করা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রধান প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভূমি অধিগ্রহণ ২০০ দশমিক ২২ একর, ভূমি উন্নয়ন (১০০ একর), অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ চারটি (প্রতিটি ১০তলা), প্রশাসনিক ভবন একটি (৬তলা), ছাত্র-ছাত্রী হল নির্মাণ চারটি (দু’টি করে প্রতিটি ১০তলা), উপাচার্যের বাসভবন নির্মাণ একটি (দু’তলা), শিক্ষকদের আবাসিক ভবন নির্মাণ একটি (১০তলা), ডরমেটরি ভবন নির্মাণ একটি (১০তলা), ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র নির্মাণ একটি (৫তলা), অডিটোরিয়াম নির্মাণ একটি (৩তলা), মেডিকেল সেন্টার নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক, লেক খননসহ বেশ কয়েকটি কার্যক্রম। এদিকে কুমিলৱা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার ৬৫৫ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।