দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। সব দলের অংশগ্রহণে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলে তা দেশের রাজনৈতিক সি’তিশীলতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকেও নিশ্চিত করবে। সে সম্ভাবনার দিকেই এগুচ্ছে দেশ। ধারাবাহিক সংলাপ ও ঘোষিত তফসিল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে ফরম বিক্রিতে নজিরবিহীন সাড়া মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। বেশ উৎসবমুখর পরিবেশেই এগুচ্ছিল নির্বাচনি কর্মকা-। এর মধ্যেই বুধবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা-সন্ত্রাস কেউই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সচিত্র খবরে মানুষ স্তম্ভিত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এমন দায়িত্বহীন, উস্কানিমূলক কাজের উদ্দেশ্য কি?
শুর্ব থেকেই বড় বড় দলের কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যে ভাবে শো-ডাউন দিয়ে এসেছে তা ছিল অনাকাঙিৰত। এর ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনজীবন অচল হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হলেও নির্বাচন কমিশন গা করেনি। অবশেষে দেরিতে হলেও নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা তা মেনে নিতে পারেনি। তারা কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে, গাড়ি ভাংচুর করে আগুন জ্বালিয়েছে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিৰেপ করে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সংঘর্ষে উভয় পৰে বেশ কয়েকজন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
এই ঘটনা নিয়েও পাল্টা পাল্টি অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীদের পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমরা তার কথায় আস’া রাখতে চাই। হামলাকারী যেই হোক তাদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই। অশান্তি সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে র্বখে দাঁড়াতে হবে। নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র দেশবাসী বরদাশত করবে না, এটা সবারই মনে রাখা দরকার।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অশান্তি-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা অতীতে কারও জন্যই ভালো হয়নি। এর ফলে দেশ ও জনগণকে যে মূল্য দিতে হয়েছে তা ভুলে যাবার নয়। গত সংসদ নির্বাচনের মত আগুন সন্ত্রাস করে অরাজকতা সৃষ্টি কেউই মেনে নেবে না। নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশিৱষ্ট সব পৰের সচেষ্ট থাকাই আমাদের কাম্য।